• আজ বুধবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

হোম ডেলিভারী সার্ভিসে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ

Bhola news
❏ মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১ বরিশাল

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার মনপুরার মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন করছে অসাধু জেলেরা। আর সেই মা ইলিশ আবার হোম ডেলিভারী মাধ্যমে গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে অসাধু একটি জেলে চক্র। এতে নিষেধাজ্ঞার সময় মা ইলিশ নিধন করায় প্রকৃত জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত চারদিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেঘনায় তিনটি দলে ভাগ হয়ে মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করছে প্রভাবশালী জেলেরা। একদল নদীর পাড়ে অবস্থান নেয় কখন কোন পাশের নদীতে অভিযান নামবে প্রশাসন। আরেক দল জাল ও নৌকা নিয়ে মেঘনায় নির্বিঘ্নে মা ইলিশ শিকার করা। শেষ দলের কাজ হলো জেলেদের ধরা মা ইলিশ মোটরসাইকেল বা রিকশাযোগে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া।

এদিকে সোমবার সকালে মৎস্যজীবি নেতা জাহাঙ্গীর মাঝি ও সাইফুল মাঝির নের্তৃত্বে একদল মাঝি মনপুরা প্রেসক্লাবে এসে অভিযোগ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একদল প্রভাবশালী আড়তদারদের মাছ বিক্রি করা অসাধু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার করছে প্রতিনিয়ত। এই সময় জেলেরা অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোম ডেলিভারী দেওয়া এক সদস্য সূত্রে জানা যায়, নদীর পাড় থেকে জেলেদের শিকার করা ইলিশ নিয়ে গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া। তবে গ্রাহকের সাথে মোবাইল ফোনে দাম ও কত হালি ইলিশ লাগবে তা নির্ধারন করা হয়, পরে ভোর রাতে গ্রাহকের চাহিদা মতো ইলিশ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এখন ইলিশের দাম কত এমন প্রশ্নে ওই ডেলিভারী সদস্য জানান, প্রতি হালি (৪টা) ইলিশ এক হাজার পাঁচশত টাকা থেকে দুই হাজার টাকা। প্রতিটি ইলিশের ওজন এক কেজি দুইশত গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের। তবে প্রত্যেকটি ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে বলে জানান তিনি।

এই ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল গাফফার জানান, মেঘনায় অভিযান চলছে। তবে অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলবে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম মিঞা জানান, মনপুরার চারপাশে মেঘনা। তাই মেঘনায় অভিযান কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তবে ৩টি টিম অভিযান করছে। অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।