যুবলীগ চেয়ারম্যানের নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

atok n234
❏ মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১ আলোচিত

রবিউল ইসলাম, সময়ের কণ্ঠস্বর- বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মূলহোতাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) ভোররাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজীমনগর ইউনিয়ন থেকে ডিএমপি’র সিটি-সাইবার ক্রাইম (সিটিসিসি) ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন সদস্যরা ২ প্রতারককে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মূল আসামি ফিরোজ খন্দকার (২৮) ও তার সহযোগী মো রাকিবুল ইসলাম (২২)। তাদের কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল-সিমসহ প্রতারণাকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

মামলার বাদী ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দিন খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ পরিচয়ে তদবির করার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ বুঝতে পারেন তার নম্বরটি ক্লোন করে অর্থ আত্মসাৎ করছে একটি চক্র।

‘এ ঘটনায় গত শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী থানায় তার পক্ষে মামলা দায়ের করি। মামলাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ও ২৬ ধারায় করা হয়। পরে সাইবার ক্রাইম টিম প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে।’

জানা যায়, পরশের নাম করে তার ব্যবহৃত রবি নম্বরটি ক্লোন করে গত ৯ অক্টোবর প্রথম ফোন করা হয় গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীন হাসান লোটনের গ্রামীণ ফোনের নম্বরে। সংগঠনের জন্য চাঁদা হিসেবে তাকে একটি রকেট নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। একই দিন নেত্রকোনা যুবলীগের আহ্বায়ক জনি ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের চপলকে ফোন করে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়।

১০ অক্টোবর মুশফিকুল ইউনুস জায়গীরদার নামে এক ব্যক্তি এবং পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সনি বিশ্বাসকে ফোন করে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। এছাড়াও গত কয়েকদিনে একই পরিচয়ে দেশের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোন করে টাকা দাবি করে প্রতারক চক্রটি।

এদিকে মামলার পরই এ ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশে কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগ। একপর্যায়ে প্রতারণাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হলে প্রযুক্তির সাহায্যে মঙ্গলবার ভোররাতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থেকে মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে বিষয়টি সময়ের কণ্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেছেন এ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ।

তিনি বলেন, আমরা মামলাটির ছায়া তদন্ত করে মূল আসামিকে শনাক্ত করি। পরে আজ ভোররাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একই বাসা থেকে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্রের আরো তথ্য জানতে তাদের তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সকালে সিএমএম কোর্টের বিচারক আশেক ইমামের আদালতে তোলা হলো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হলে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ফিরোজ এই প্রতারক চক্রের মূলহোতা। তার নামে আরো তিনটি প্রতারণা মামলা রয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।