🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ৷

ফেনীতে দখলদারদের কবলে চরের জমি দুশ্চিন্তায় জেলে ও পশুপালনকারীরা

Feni news
❏ বুধবার, অক্টোবর ২০, ২০২১ চট্টগ্রাম

আবদুল্যাহ রিয়েল,ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীতে সোনাগাজীর উপকূলীয় চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরখোন্দকার এলাকায় ফেনী নদীর পাড়ে জেগে ওঠা চর আব্দুল্লাহ দখলদারদের কবলে! চরের মাঝে সরকারি খাস ও বনবিভাগের জায়গার মাটি কেটে ঘেরাও দিয়ে বিশাল আকৃতির মৎস্য ঘেরে পরিনত করছে বেশ কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন এই চরে মৎস্য আহরন করে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে ও উন্মুক্তভাবে গবাদিপশু পালনকারীরা। ঘেরের ভিতরে মাছ ধরার জন্য গেলে জেলেদের পিটিয়ে আহত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানি নেমে গেলে চরের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আটকা পড়ে। সেগুলো আহরন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন জেলেরা। কিন্তু রাতের অধারে স্ক্যাভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুরো চরজুড়ে বিশাল আকৃতির অন্তত ৫০টিরও বেশি ঘের তৈরি করেছে কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি। দিনের আলোতে সেই স্ক্যাভেটর মেশিন আর দেখা যায়না। আবার সেই ঘেরগুলো পাহারা দেয়ার জন্য ঘেরের পাড়ে উঁচু মাচাঘর তৈরী করা হয়েছে। বাদ যাচ্ছেনা বনবিভাগের জায়গাও। বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানেও ঘের তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, চরের কিছু জায়গা ব্যক্তি মালিকানা আছে। বেশিরভাগই সরকারি খাস ও বনবিভাগের জায়গা। নিজেদের জায়গা থাকার সুবাধে সরকারি খাসের জায়গায়ও মাটি কেটে ঘের তৈরী করা হচ্ছে। আবার অন্যের জমিও দখলে নিচ্ছে অসাধু চক্রটি। ঘেরের ভিতরে কেউ মাছ ধরতে গেলে বাধা প্রদান করা হয়। মৎস্য আহরন করাই এখানকার জেলেদের একমাত্র পেশা। কিন্তু বিগত কয়েক মাসে দখলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আগের মত মাছ পাচ্ছেনা তারা। এ কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করেন জেলেরা। অপরদিকে এসব ঘেরের কারনে চারণভূমি কমে যাওয়ায় উন্মুক্তভাবে পালনকরা গবাদিপশু(গরু, মহিষ, ভেড়া) চরের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এবিষয়ে বেশকয়েকবার আবুল হাশেম, জেবল হক ও ফরিদের নাম উল্যেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এম জহিরুল হায়াত বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন জেলেরা।

স্থানীয় জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই চরে অন্তত ২শতাধিক জেলে মৎস্য আহরন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়াও অনেকে শখ করে মাঝেমধ্যে মাছ ধরতে আসে এখানে। কিন্তু আবুল হোসেন, জেবল হক, ফরিদ সহ বেশ কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি যোগাসাজশে সেই চরে মাটি কেটে মৎস্য ঘের তৈরি করে মৎস্য আহরণে বাধা সৃষ্টি করে। ঘেরের ভিতরে গেলে মারধোর করে জাল নিয়ে যায়। গত ১সপ্তাহে অন্তত ১০জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এসব সমস্যার কারণে আগের মত মাছ ধরতে না পারায় পরিবারের খরচও মেটানো সম্ভব হচ্ছেনা তাদের।

মহিষ পালনকারী কালামিয়া জানান, আগে এই চরে অনেকেই গরু, মহিষ, ভেড়া পালন করত। কিন্তু দখলদারদের বাধার মুখে তা সম্ভব হচ্ছেনা। ঘেরের মধ্যে পশুগুলো গেলে বাধা প্রদান করা হয়। এই কারনে এসব পশুগুলোকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছি। আরেক মহিষ পালনকারী নুর আলম জানান একদিকে শিল্পাঞ্চলের জন্য জমি অধিগ্রহণ, অপরদিকে প্রভাবশালীদের চর দখলের কারনে গবাদিপশুর চারণভূমি কমে যাচ্ছে। এরফলে অনেকে মহিষের পাল এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে মুছাপুরের দিকে নিয়ে গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল হাশেমের ছেলে আরিফুল ইসলাম বলেন, জেলেদেরকে মৎস্য আহরনে বাধা দেয়া হয়না। কিছু জেলে অন্যের মৎস্য প্রকল্পে জাল ফেলে মাছ ধরে নিয়ে যায়। তখন হয়ত তাদের বাধা প্রদান করে। আর ঘেরের জায়গা কিছু আমাদের নিজস্ব আর কিছু অন্যদের থেকে টাকার বিনিময়ে লিজ নিয়ে মাছের ঘের করা হয়। আরেক অভিযুক্ত জেবল হক বলেন, আমি অন্যের নিকট বর্গা নিয়ে ঘেরগুলোতে মাছ ধরি। এমনিতে কাউকে বাধা দেয়া হয়না। তবে আমরা যে জায়গাগুলোতে ঝাক দিয়ে রাখি সেখানে জাল ফেলতে নিষেধ করি। মারধরের কোন প্রশ্নই আসেনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এম. জহিরুল হায়াত জানান, জেলেদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জেলেদেরকে মারধোর করারও অভিযোগ করেছে তারা। এজন্য থানায়ও লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি তাদের। সরকারি খাস জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।