• আজ বুধবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

শিক্ষক বাতেনের অপসারণ দাবিতে আবারও আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

baten n34n
❏ শনিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২১ শিক্ষাঙ্গন

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কাটায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের অপসারণ দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাত থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করছেন।

জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনির আশ্বাসে তারা গত ২ অক্টোবর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। পরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে দুই ৩ দফায় কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ডাকা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়নি এবং সে কোন ধরনের যোগাযোগ করেনি বলে তদন্ত কমিটির প্রধান রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌসী হিমেল বলেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে শুক্রবার রেজিস্টার সোহরাব আলী ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে পৌঁছে দেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।

রবি’র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম জানান, আমরা শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির আশ্বাসের ফলে আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পরার পর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় আমরা আবার তার অপসারণ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট সভায় কোন সিদ্ধান্ত না আসায় তারা মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কালক্ষেপণের মাধ্যমে আন্দোলন কে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ততোক্ষণ পর্যন্ত ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে অপসারণ করা না হয় আমরা আমাদের অবস্থান, বিক্ষোভ ও আমরণ অনশন চালিয়ে যাবো।

আন্দোলনের বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করবো যেনো তারা আন্দোলন থেকে সরে আসে।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, আমরা তো তাদের আন্দোলন করতে বলিনি। তারা যদি আন্দোলন করে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুক্রবার তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এটা নিয়মিত সভার অংশ। ফারহানা বাতেনের বিষয়টি একটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, এতে সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন রোববার ১৬ জন ছাত্রের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন এবং তাদের লাঞ্ছিত করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন সেই ১৬ ছাত্রকে ডেকে নিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। চুল কাটার বিষয়, সহকারি প্রক্টর দ্বারা হুমকি ও লাঞ্ছিত হওয়ার পর হতাশাগ্রস্থ্য হয়ে নাজমুল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে সহপাঠিরা তাকে উদ্ধার করে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।