২৫ বছর পর ভোট হবে রাজশাহীর বানেশ্বরে

Rajshahi news
❏ রবিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২১ রাজশাহী

অসীম কুমার সরকার, রাজশাহী প্রতিনিধি: দীর্ঘ ২৫ বছর পর ভোট হবে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। এলাকাটিতে পৌরসভা নয়, ইউনিয়ন পরিষদ রাখার দাবিতে নির্বাচন স্থগিত মামলা দায়ের করা হয়। সেই জটিলতা কাটলো মামলা দায়েরের প্রায় ২১ বছর পর। মামলাটি খারিজ হওয়ায় ভোট গ্রহণে এখন আর কোনো আইনি বাধা রইল না। এদিকে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর এই এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলাজুড়ে। তবে বানেশ্বরে ভোট গ্রহণ হবে পৌরসভার নাকি ইউনিয়ন পরিষদের? এই নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানান গুঞ্জন।

বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের দায়েরকৃত ভোট গ্রহণ স্থগিত মামলাটি গত ৬ সেপ্টেম্বর মহামান্য হাইকোট খারিজ করে দেন। এরপর ওই চেয়ারম্যান ৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোটে আপিল করেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আপিলের শুনানি হয়। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোট চেয়ারম্যানের দায়েরকৃত আপিলটি খারিজ করে দেন। বর্তমানে এই এলাকায় ভোট গ্রহণে আইনী আর কোনো বাধা নেই। তবে যেহেতু মামলাটি ছিল পৌরসভা ঘোষণা বাতিলের, আর এখন সেই মামলা খারিজ হয়েছে। তাই নিয়ম অনুসারে এটা ইউনিয়নের পরিবর্তে পৌরসভা এলাকা হবে। তবে স্থানীয়দের দাবিতে প্রশাসনিকভাবে বানেশ্বর এলাকা ইউনিয়ন পরিষদ রাখার পক্ষে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদে একসাথে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় ৩নং বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় আ’লীগের সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী গাজী সুলতান নির্বাচিত হোন। এরপর ২০০২ সালে বিএনপির সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা বানেশ্বর ইউনিয়ন এলাকাকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করেন। আর ২০০৩ সালে পৌরসভা বাতিল চেয়ে চেয়ারম্যান গাজি সুলতান মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। সেই সাথে মামলার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট গ্রহণ স্থগিতাদেশেও মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে আইনী জটিলতার কারণে এই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়।

বানেশ্বর বাজারের শাজাহান আলী বলেন, দীর্ঘদিন পর এখানে ভোট হবে শুনে খুবই ভালো লাগছে। এখানে ইউনিয়ন না পৌরসভা এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবে রাজশাহী জেলার মধ্যে বানেশ্বর বাজার একটি বাণ্যিজিক এলাকা। তাই পৌরসভা ঘোষণার সিদ্ধান্ত ঠিক রেখে ভোট দেয়া হোক।

শহিদুল ইসলাম নামের একজন জানান, এলাকার মানুষ ২৫ বছর আগে এখানে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট দিয়েছিল। এখন এই এলাকার ভোটার প্রায় আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এলাকার অধিকাংশ লোকজন এই জনপ্রতিনিধিদের কাজ কর্মে অতিষ্ঠ। জনপ্রতিনিধিরা মামলার অযুহাতে দীর্ঘদিন তাদের একক ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। তারা জনসেবার চেয়ে নিজেদের সুবিধা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে পরিষদে আসলে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্যদের পাওয়া যায় না।

বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ উর্ত্তীণ চেয়ারম্যান গাজি সুলতান বলেন, মামলাটি খারিজ হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখানে পৌরসভা না ইউনিয়ন থাকবে সেটা এখনো ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বাসী। বর্তমানে এই এলাকা পরিচালনা করার মত আমার চেয়ে দ্বায়িত্ববান আর কেউ নেই। যার কারণে আমার নিজের অর্থ খরচ করে মামলা চালিয়েছি। আর এলাকার জনগণের সেবা করে আসছি।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন বলেন, মামলা জটিলতার কারণে বানেশ্বর ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ আছে। সেখানে নির্বাচন দিতে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তবে এখানে পৌরসভা বা ইউনিয়ন হবে সে বিষয়ে কোনো কাগজপত্র আসেনি। আর ভোট যাই হোক আমরা প্রস্তুত আছি। নির্দেশনা আসলে অবশ্যই সেখানে ভোট গ্রহণ করা হবে।