• আজ বুধবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত ২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা, মহাসড়ক অবরোধ

robindo n234n
❏ রবিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২১ দেশের খবর, রাজশাহী

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চুল কাটার ঘটনায় আবারও আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইজন আত্মহত্যার চেষ্টায় কীটনাশক পান ও ব্লেড দিয়ে হাত কেটেছে।

আজ রোববার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে একাডেমিক ভবনের সামনে এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিরাজগঞ্জ-নগরবাড়ি মহাসড়কের বিসিক মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ অবস্থায় মহাসড়কের দুপাশে যানজট লেগে যায়। ঘন্টাখানেক পর অবরোধ তুলে নেয় তারা।

আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র শামীম হোসেন কীটনাশক পান করেছে আর তার সহপাঠী একই বিভাগের শিক্ষার্থী আবেদ হোসেন ব্লেড দিয়ে হাত কেটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, আজ বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করার বিষয়ে গতরাতে ঘোষণা দিয়েছিল। এ কারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোঝাতে রেজিষ্টার সোহরাব হোসেনসহ আমরা একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়েছিলাম। কিন্তু আলোচনা চলার একপর্যায়ে শিক্ষার্থী শামিম কীটনাশক পান করে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

এরপর শিক্ষকদের একটি অংশ দ্রুত তাকে প্রথমে সিপিডি ট্রাস্ট হাসপাতাল ও পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই শিক্ষার্থী আবেদ বেল্ড দিয়ে হাত কাটেন। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মহাসড়ক অবরোধ করেছে।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র জাহিদুর রহমান শিরাত জানান, মহাসড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুপাশে যানজট লেগে গিয়েছিল। জনগনের ভোগান্তির বিষয়টি চিন্তা করে আমরা ঘন্টাখানেক পর অবরোধ তুলে নিয়েছি। আমরা আবার ফিরে গিয়ে একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেব। যে পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে স্থায়ী বরখাস্ত না করা হবে, আমাদের আন্দোলন চলতেই খাকবে।

এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্বান্তে পৌছাতে না পারলে একাডেমিক ভবনের সামনেই আত্মহত্যা করবেন বলে গতরাত (শনিবার) ১২টার পর ফেসবুক লাইভে এসে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থী শামিম। যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ওই সময় লাইভে তিনি বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। সর্বপুরি আমরা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেছি। তারাও আমাদের আশ্বত্ব করেছিল। আমরা তাদের কথামতো আন্দোলন শিথিলও করেছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চুল কাটার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রমানাদি পাওয়ার পরও তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করতে গড়িমড়ি করছে।

মুলতবি হওয়া সিন্ডিকেট সভা কবে হবে, এ বিষয়ে কবে সিদ্বান্ত নেয়া হবে, আমাদের কিছুই জানানো হচ্ছে না। আমরা চরম আশাহীনতায় ও ধোয়াশায় ভুগছি। আমাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে, সবাই আস্থাহীনতায় ভুগছি। প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যত নিয়ে আতংকে আছি। এ ভাবে কোন শিক্ষাজীবন চলতে পারে না। কর্তৃপক্ষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের দমনের চেষ্টা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের শিক্ষাজীবনের নিশ্চয়তা দিতে না পারছে না, তাই চরম আস্থাহীনতা ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অন্যরা কি করবে জানি না, তবে আমি নিজে আত্বহত্যা করবো। আর এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (ভারপ্রাপ্ত ভিসি) আব্দুল লতিফ রোববার সকালে মোবাইলে বলেন, শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘোষণা দেয়ার কথা শুনেছি। আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যাব। তাদের বোঝানোর জন্য চেষ্টা করবো।

অভিযুক্ত শিক্ষিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে আরও জানতে সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় সিন্ডিকেট সভা মুলতবি করা হয়েছে। ওই সভায় সচিবরা থাকেন, তারাও ঘটনা সর্ম্পকে পরিস্কার ধারণা নিচ্ছেন, এজন্য সময় লাগছে। এটা শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে। তবে দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টার পর তাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভা হয়। আরও কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ বাকি রয়েছে জানিয়ে সিন্ডিকেট সভা মুলতবি করা হয়। এদিন রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে আবারও আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে ৭জন আমরণ অনশন ও বাকিরা দিনরাত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।

এরআগে ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের ১৬ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠে ওই বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে। অপমান সহ্য করতে না পেরে ২৭ সেপ্টেম্বর নাজমুল হাসান তুহিন নামে এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। ওই দিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিন্ডিকেট সভা শেষে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলতেই থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।