• আজ সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

ত্রিশালের সেই ‘চেচুয়া বিল’ এখন শাপলার রাজ্য

full
❏ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৯, ২০২১ দেশের খবর, ফিচার, ময়মনসিংহ

মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি- গত দুই বছর আগে যে বিলের পানি ও মাটিতে সর্ব রোগের ওষুধ জেনে হাজারও লোকের ভীর জমেছিল সে বিলেই ফোটা লাখো লাল শাপলা দেখতে এখন মানুষের সমাগত।

প্রকৃতির অপরূপ রূপে সেজেছে ত্রিশালের এ শাপলার বিল। চেচুয়া বিল নামে পরিচিত এ বিলের যতদূর চোখ যায়- শাপলা ফুলের রক্তিম আভার হাতছানি। বিলের পানিতে মাথা উঁচু করে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা। মাঝে মাঝে দেখা যায় সাদা আর বেগুনী শাপলা ফুল। এরই সাথে ভাসমান কচু ফুলের সাদা আভা সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। ভ্রমণ পিপাসু মানুষ এই সৌন্দর্য দেখতে ভীর জমাচ্ছে এখানে।

এই বিলের যে অংশে ফোটেছে শাপলা, সেখানে যেতে বিড়ম্বনাও আছে পর্যটকদের। ভালো কোন যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয় কাঙ্ক্ষিত সেই শাপলার দেখা পেতে। শাপলা ফুলের অধিক সমাহার কাছ থেকে বা ছুয়ে দেখতে নামতে হয় পানিতে, ভিজাতে হয় জামা। তবুও ভ্রমণ পিপাসুদের বিন্দু মাত্র পিছুটান নেই প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটারের পথ হবে এই বিলের দূরত্ব। উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বিশাল বিল এটি। সারাদেশের মানুষ এ বিলকে চিনেছে একটি অলৌকিক ঘটনার গুজবকে কেন্দ্র করে। একদিন রাত পেরিয়ে সকাল হতেই কিছু লোক দেখতে পায় সেখানে থাকা জমাট বাধা কচু হঠাৎ সরে গিয়ে অনেকটা জায়গা ফাঁকা হয়েছে। এটাকে অলৌকিক ভেবে কয়েকজন এখানে গোসল করে ও এর পানি খেয়ে রোগ থেকে মুক্ত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশের হাজার হাজার মানুষ এই কাঁদা মাখা পথ পেরিয়ে কাঁদা মাখা পানিতে গোসল, গড়াগড়ি ও কাদাযুক্ত পানি সংগ্রহ করতে ভীর করতে থাকে।

এমন গুজবও ছড়ানো হয়েছিল, হাজারো মুশকিলের একমাত্র আছান এই চেচুয়া বিল। বিলের পানিতে এক ডুবেই সেরে যাবে যেকোনো রোগ। এখানকার মাটি ও পানি নাকি সর্বরোগের ওষুধ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে ছড়ানো গুজবে হাজারো মানুষের তথাকথিত তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছিল ময়মনসিংহের এই চেচুয়া বিল।

ঐসময় উপজেলা প্রশাসন, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে চেচুয়া বিলের পানি, মাটি, কচুরিপানা ব্যাবহার না করার জন্য প্রথমে মাইকে আহ্বান জানান। এতে কাজ না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের লাঠিচার্জের আদেশ দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সৌন্দর্য রক্ষায় ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে বিলে ফুল তুলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ঘুরতে আসা মানুষকেও সহযোগিতা করছে এলাকাবাসী, দর্শনার্থীদের নিয়মানুবর্তিতায় হয়ত এভাবেই প্রতি বছর বিলটি হয়ে উঠবে একটি সৌন্দর্যপূর্ণ স্থান হিসেবে, যা ত্রিশাল উপজেলার নতুন একটি দর্শনীয় স্থানের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, নতুন যোগদানের পরই শুনেছি চেচুয়া বিলের গুজব কান্ডের কথা। তবে এখানে লাল পদ্মের সমাহার যে কোন প্রকৃতি প্রেমিকে মুগ্ধ করে। চেচুয়ার সৌন্দর্য ধরে রাখতে ও পর্যটকদের নিরবিচ্ছিন্ন প্রকৃতি উপভোগের জন্য সবধরণের সহযোগিতা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।