হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ভুল চর্চা না হোক: শাওন

sawon m
❏ শনিবার, নভেম্বর ১৩, ২০২১ বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক- (১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ঔপন্যাসিক, নির্মাতা, নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯৪৮ সালের এই দিনে নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। যার হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে অনবদ্য চরিত্র হিমু, মিসির আলি, রূপা, শুভ্রদের মতো তুমুল জনপ্রিয় অদৃশ্য চরিত্র।

প্রতিবছরই বিশেষ এই দিন ঘিরে থাকে নানান আয়োজন। এবারও প্রিয় লেখককে স্মরণ করেছেন তার ভক্তরা। পরিবারের পক্ষ থেকে সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে নুহাশ পল্লীতে ভিড় করেছিলেন ভক্তরা।

জন্মদিনে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘যারা হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবাসেন তারা তাকে আজীবন ভালোবেসে গেছেন, যাবেন। তারাই তাদের পরবর্তী প্রজন্মের হাতে হুমায়ূন আহমেদের লেখা, সৃষ্টিকর্ম তুলে দেবেন। এটাই আমার আজীবনের প্রাপ্তি। শুধু আমার না, হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের প্রাপ্তি।’

জনপ্রিয় এ লেখকের স্মৃতি ধরে রাখতে বিভিন্ন প্রত্যাশার কথা আগে বলেছিলেন শাওন। কিন্তু এবার তার মুখে নেই কোনো প্রত্যাশার কথা। শাওন বলেন, ‘হুমায়ূনহীন হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন, এটি দশমবার। প্রতিবারই প্রত্যাশার কথা বলি। আশা এবং স্বপ্নের মাধ্যমে আমরা বেঁচে থাকি। কিন্তু এবার কোনো প্রত্যাশার কথা বলব না। আসলে কোনো প্রত্যাশা নেই।’

“আমি বলবো যে, যারা হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবাসেন, হুমায়ূনকে নিয়ে কাজ করতে চান অনেকেই। তবে যা-ইচ্ছা তাই করবেন না, খুব অনুরোধ করছি। গত ১০ বছর ধরে এই জিনিসটা আমার কাছে খারাপ লেগেছে যে, হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে কাজ করবার চেষ্টা বা হুমায়ূনকে নিয়ে হঠাৎ করে একটা সিনেমা বানিয়ে ফেলা বা একটি বই লিখে ফেলা।”

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, “হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে অনেকেই ভালোমতো গবেষণা করছেন, বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে পিএইচডি হচ্ছে, হুমায়ূন সাহিত্য নিয়ে অনেকেই চর্চা করছেন। সেই চর্চাটা বাড়ুক, ছাত্ররা হুমায়ূন সম্পর্কে জানুক এবং সবাই জানুক।”

সবশেষে তিনি বলেন, “তবে ভুল কোন চর্চা না হোক- এটা আমার অনেক বড় প্রত্যাশা। কারণ হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সম্পদ। সেই সম্পদটা ভালো মতো চর্চা হোক।”

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্ম নন্দিত কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় এই লেখকের।

আরও পড়ুন :