• আজ সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

কেরানীগঞ্জে ট্যানারি বর্জ্যে দূষণের শিকার হচ্ছে খালবিল, ফসলি জমি

Keraniganj Tannery news
❏ রবিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২১ ঢাকা

মাসুম পারভেজ, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাস্তা ইউনিয়নের পোথাইল গ্রামে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্যে দূষণের শিকার হচ্ছে খালবিল, ফসলি জমি। ট্যানারির বর্জ্যের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক ও আশপাশের মানুষজনের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব খালবিলে মাছ নেই বলেলই চলে, জলজ উদ্ভিদের অস্থিত্বও বিপন্ন।

কৃষি কাজে জড়িত স্বল্প আয়ের মানুষের জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাতাসেও বর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। চারপাশের পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দূষিত পানি ব্যবহার করে অনেকে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। অথচ পরিবেশ দূষণ রোধে রাজধানীর হাজারিবাগের ট্যানারিগুলোকে সাভারে চামড়াশিল্প নগরে সরিয়ে নেওয়া হলেও একই দূষণে শিকার পোথাইল গ্রামের সাড়ে তিন হাজার মানুষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বাস্তা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পোথাইল গ্রামে যেতেই পাকাপুল তার একটু সামনেই যেতে চোখে পড়ে ট্যানারিটি। ট্যানারির দিকে এগোতেই ভেসে আসে পচা দুর্গন্ধ। কারখানাতে তরল, কঠিন ও বায়বীয় তিন বর্জ্য উৎপন্ন হয় সেগুলো পরিশোধনের ব্যবস্থা নেই। এতে চামড়ার বর্জ্যে আশপাশের খালবিলের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। এছাড়াও ট্যানারির বর্জ্য ও ময়লা পানি একটি মোটা পাইপ দিয়ে সরাসরি খালের ওপড় দিয়ে ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। ট্যানারি আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতের সময় দুর্গন্ধ একটু কম থাকে। পানির রং অনেকটা কালো হয়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায় দুর্গন্ধে অনেকে শ্বাসকষ্ট হয়। চর্মরোগও দেখা দেয়। আগে এগুলোর প্রকোপ ছিল না।

পাশের গ্রামের মোহন মিয়া বলেন, ট্যানারির ময়লার গন্ধে ঘরে থাকা দায়। ট্যানারি চালু হয়েছে ২০-২৫ বছর আগে। এর জন্য ঘরের চালের টিন নষ্ট হয়ে গেছে। জামা কাপড়ের রং বদলে যাচ্ছে। গৃহস্থালি সামগ্রী দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।

পোথাইল গ্রামের বাসিন্দা মাদব দাস বলেন, দাদাভাই ভালো করে রিপোর্ট কইরেন। আমরা যেন ট্যানারি উৎপাত থেকে রক্ষা পাই। আপনারাই পারেন আমাদের কষ্টের কথাগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে। আপনাদের মধ্যেমে সরকারে কাছে আমাদের সবার একটাই দাবি এখান থেকে ট্যানারি সরিয়ে নেওয়া হোক।

একই গ্রামের কৃষক অমিত দাস বলেন, জমিতে আমরা সব ধরনের ফসলের আবাদ করতাম। কিন্তু এখন বিষাক্ত হয়ে আর কিছুই হয় না। ঘাসও এখন বিষাক্ত হয়ে গেছে। ট্যানারির বর্জ্যে কারণে গ্রামের এখন চর্মরোগ ও হাঁপানি রোগ হয়।

এসময় সুক্লা রানী বলেন, আমরা বেশী ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। বর্জ্য ঢুকে পানি এবং পরিবেশ যেভাবে নষ্ট করছে এতে করে এখানকার কৃষির উপর আগামীতে একটা বড় ধরণের চাপ পড়বে ফসল উৎপাদন সংকট দেখা দিবে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি কামনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।

ট্যানারির মালিক নীল কুমার দাস বলেন, আমার নিজের দেড় বিঘা জমিতে পুকুর কেটে তাতে বর্জ্য ও ময়লা পানি ফেলছি। অন্য কারও জমিতে না এবং এখানের পাশের জমি আমারই। এখন চামড়ার বাজারও তেমনই নেই। কারখানা চলে আবার চলে না, বন্ধই থাকে।

বাস্তা ইউপি চেয়ারম্যান আশকর আলী বলেন, এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়ে ট্যানারি বন্ধ করেছিলাম। আমি তাদের বলেছি, তাদের ট্যানারি নিয়ে সাভারে যেতে। পুনরায় ট্যানারি চালু থাকার বিষয আমার জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন কোনো কিছুই আমরা বরদাশত করব না। এবিষয় খোঁজখবর নিয়ে অতিদ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।