🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ৷

শহরের বন্যা সমস্যা নিরসনে ‘স্পঞ্জ সিটি’ বানাচ্ছে চীন

International news
❏ রবিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২১ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যেদিন নদীতে ডুবে মরতে বসেছিলেন সেদিকের কথা স্পষ্ট মনে আছে ইউ কংজিয়ানের। তার বাড়ির পাশের একটি নদীতে বন্যার পানি ঢুকছিল। ১০ বছর বসয়ী ইউ কংজিয়ান কৈশোরের অদম্য কৌতুহলে গিয়েছিলেন বন্যার পানি আসা দেখতে। হঠাৎ ভূমিধসের কারণে তিনি নদীতে পড়ে যান। নদীর পাশের গাছপালা ধরে প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা পান তিনি।

বিবিসিকে তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ওই নদীর পাড় এখনকার মতো কংক্রিট নিয়ে বাঁধানো হলে আমি প্রাণ বাঁচানোর জন্য কোনো কিছু খুঁজে পেতাম না। সেদিনের সেই ঘটনা শুধু ইউ কংজিয়ানের জীবনকেই বদলে দেয়নি, বদলে দিয়েছে চীনের বহু জায়গা।

ইউ কংজিয়ান চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদদের একজন। কংজিয়ান পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ কলেজের ডিন ও ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণার জনক।

এই ধারণাকে প্রয়োগ করেই চীনের বহু শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বন্যার অতিরিক্ত পানি শহরগুলোতে নানা উপায়ে ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, বিশ্বের অন্যান্য শহরেও এই ‘স্পঞ্জ সিটি’ গড়ে তোলা সম্ভব। যদিও প্রবল বন্যার সময় এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বন্যাকে ভয় না করে কেন তাকে বরণ করা যায় না- অধ্যাপক ইউয়ের ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণার মূল প্রশ্নই এটি। বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টি দেওয়া হয় পাইপ বসিয়ে, ড্রেন তৈরি করে বন্যার পানিকে যত দ্রুত সম্ভব পার করে দেওয়া। অথবা নদীর দুই কূল কংক্রিট দিয়ে বাধাই করা যেন বন্যার পানি উপচে না পড়ে।

কিন্তু স্পঞ্জ সিটিতে এর উল্টো কাজ করা হয়। এখানে বন্যার পানিকে স্পঞ্জের মতো শুষে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, এবং বন্যার স্রোতের গতি কমিয়ে আনা হয়।এই কাজটা হয় তিন ভাগে। প্রথমত, বন্যার পানি যেখান থেকে আসে। স্পঞ্জের মধ্যে যেমন অনেক ছোট ছোট গর্ত দিয়ে পানি শুষে নেওয়া হয়, তেমনিভাবে শহরের মধ্যে অনেক জলাশয় তৈরি করে পানি ধারণ করা হয়।

দ্বিতীয় কাজটি হলো পানির ধারা নিয়ন্ত্রণ। বন্যার পানিকে লম্বালম্বি লাইন ধরে সরিয়ে না নিয়ে আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে পানিকে প্রবাহিত হতে দেওয়া এবং গাছপালা, লতাগুল্ম দিয়ে পানির গতি কমিয়ে আনা।

এই পদ্ধতির বাড়তি সুবিধা হলো, শহরের মধ্যে অনেক খোলা জায়গা তৈরি হবে, তৈরি হবে পার্ক, বন্য প্রাণীর বসবাসের জায়গা। জলজ লতাগুল্ম বন্যার পানির দূষণ কাটাতেও সাহায্য করবে।

আর তৃতীয় কাজটি হলো বন্যার পানির প্রস্থানের জায়গা, যে পানি, নদী, লেক কিংবা সমুদ্রে গিয়ে পড়বে। নিচু জায়গা থেকে মানব বসতি বা দালানকোঠা সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ইউ। তিনি বলেন, বন্যার পানিকে আপনি আটকে রাখতে যাবেন না। একে সরে যাওয়ার পথ করে দিতে হবে।