• আজ রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২১ ৷

‘অসুস্থ’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী শিল্পীর মুখে হাসি ফুটালো কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা

news 7
❏ রবিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২১ দেশের খবর, রাজশাহী

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য“ ভুপেন হাজারিকার ঐতিহাসিক এই গানটিকে বাস্তবে রুপ দিয়েছেন শাহজাদপুর পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। তাদের দেওয়া আর্থিক সহযোগীতায় সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরলো শিল্পী খাতুন নামের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

জানা যায়, শাহজাদপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ঝাড়ুদার) শিল্পী খাতুন (৩০) বেশ কয়েকদিন যাবৎ পেটের ব্যাথায় ভুগছিল। গত ১ অক্টোবর প্রচন্ড পেটের ব্যাথায় ছটফট করতে থাকলে তার স্বামী পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোঃ রাসেল তাকে স্থানীয় মা ও শিশু কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় শিল্পী খাতুনের এ্যাপেন্ডিক্সের নাড়িতে ইনফেকশন হয়ে ফুলে গেছে, তাকে বাঁচাতে হলে অপারেশন প্রয়োজন। তবে ভেতরে ঘা শুকিয়ে গেলে তারপর অপারেশন করতে হবে, এজন্য ১ মাসের ব্যাবস্থাপত্র দেন।

ব্যাবস্থাপত্র অনুযায়ী ঔষধ কেনার টাকা না থাকায় শিল্পীর স্বামী রাসেল পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর রাজু আহমেদকে জানায়। রাজু আহমেদ নিজে ও সহকর্মীদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগীতা নিয়ে শিল্পী খাতুনের জন্য ১ মাসের ঔষধ কিনে দেন।

পরে পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর আজু আহমেদ উদ্যোগ নিয়ে পৌরসভার কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে সহযোগীতা নিয়ে গত ৯ নভেম্বর মঙ্গলবার পৌর শহরের মা ও শিশু কেয়ার হাসপাতালে শিল্পী খাতুনের অপারেশন সম্পন্ন হয়।

২ দিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকার পর গতকাল শনিবার শাহজাদপুর পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর রাজু আহমেদ ও টিপু খান হাসপাতালের গিয়ে বিল পরিশোধ করেন। সেই সাথে বেশ কয়েকদিনের ঔষধ ও ফলমুল কিনে শিল্পী খাতুনের কাছে হস্তান্তর করেন।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর রাজু আহমেদ বলেন, রাসেল ও শিল্পী দম্পত্বি দুজনই পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মী। তাদের যা বেতন তাতে সংসার চালানোই কঠিন, এরই মধ্যে শিল্পী খাতুন গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরে। শিল্পীর স্বামী যখন আমাকে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে উঠলো সামান্য কিছু টাকার অভাবে আমার স্ত্রীকে বাঁচাতে পারবো না। তখন আমার বুকের মাঝে কষ্ট অনুভব করেছি, কারণ অনেকের কাছে এই সামান্য কিছু টাকায় একদিনের বিলাসিতা হয় আর এই দরিদ্র পরিচ্ছন্নকর্মীর জীবন মরণের সমস্যা।

তখনই আমি তাকে আশ্বস্ত করি যে তোমার স্ত্রীর খরচ আমরা ব্যবস্থা করবো। তারপরই পৌরসভার সবাই যখন বিষয়টি জানতে পারে প্রত্যেকেই শিল্পীর চিকিৎসার জন্য সাধ্যমত সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়। শিল্পীর চিকিৎসা ও আনুসাঙ্গীক মিলিয়ে মোট বিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সহযোগীতা করেছেন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী শিল্পী খাতুন বলেন, আমরা খেটে খাওয়া গরিব মানুষ। দুজনে যা আয় করি সেটা দিয়ে দুই সন্তান সহ সংসার চালানোই কঠিন। ডাক্তার যখন জানালো আমার অপারেশন করাতে হবে তখন বেঁচে থাকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। রাজু ভাই ও পৌসসভার সবাই আমাকে বেঁচে থাকতে সহযোগীতা করেছেন, সেজন্য আমি পৌরসভার সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর কাছে কৃতজ্ঞ।