• আজ সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

শায়েস্তাগঞ্জে ক্ষেতের ধান শূকরের পেটে, চিন্তিত কৃষকরা

Habigonj news
❏ মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৬, ২০২১ সিলেট

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ এখন চলছে কার্তিক মাস, এরপরই অগ্রহায়ণ। অগ্রহায়ণ মাসেই শুরু হয় ধান কাটা।
বেশিরভাগ কৃষকরা অগ্রহায়ণ মাসেই সারাবছরের ধানের খোরাক জমিয়ে রাখেন।অথচ বিগত কয়েকবছর যাবত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ বন্য শূকরের তাণ্ডবের কারণে ঠিকমত ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। বিশেষ করে সুরাবই, পুরাসুন্দা ও লাদিয়া গ্রামের মানুষ সবচেয়ে বেশী বন্য শূকরের শিকার হচ্ছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রয়েছে কয়েকশ একর ধানের জমি। আর জমির পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে রঘুনন্দন পাহাড়। যে কারণে ধান পাকার মৌসুম এলেই পাহাড় থেকে দলবেঁধে জমিতে এসে হানা দেয় বন্যশূকরের দল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাচা-পাকা ধানের বেশ কিছু সংখ্যক জমি বন্যশূকরের আক্রমণে জমির ফসল নস্ট হয়ে গেছে। কোন কোন জমির পাকা ক্ষেতে নতুন করে যেন মই দিয়ে গেছে এসব বন্য শূকর। এমন বাস্তবতায় এতদঞ্চলের অনেকেই শুকরের আক্রমণে কৃষি কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ ফসল নষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য কাচা ধানই কোনমতে কেটে ঘরে তুলছে।

জানা গেছে, এসব জমিতে এবার বেশ ভাল ফলন হয়েছিল। কিন্তু পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন কিনা এ নিয়ে শংকিত অবস্থায়
আছেন কৃষকরা। সেই শঙ্কা থেকে মানুষজন বিগত ১৫-২০ দিন যাবত ধান বাঁচাতে যৌথভাবে জমিতে রাতের বেলা মশাল জ্বালিয়ে পাহারা দিচ্ছেন। এছাড়াও জমির পাশে বাঁশ দিয়ে মাচাং বানিয়ে পাহারা বসিয়ে সারা রাত সেখানে না ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ রাতে কিছুক্ষণ পরপরই বেশ কয়েকরকম হুইসেল বাজিয়ে তাড়াচ্ছেন বন্যশূকর। এছাড়া দলবেঁধে শূকর হানা দিলে আত্মরক্ষার জন্য লাটিসোটাও সাথে রাখছেন তারা।

সুরাবই গ্রামের কৃষক মো. শাহিন মিয়া জানান, ‘প্রতিবছরই এরকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের, কিন্তু সরকার থেকে
কোন সহায়তা আমরা পাচ্ছি না। যেসব জমিতে একর প্রতি ২০-২৫ মণ ধান হত, বন্য শূকরের তাণ্ডবের কারণে সেখানে ৫-৬ মণ
ধান হয়। সেজন্য সোনার ধান বাঁচাতে আমরা নিজেরাই সম্মিলিতভাবে কষ্ট করে যাচ্ছি।’

কৃষক মো. হান্নান মিয়া জানান, ‘শূকর দল কখনো গভীর রাতে আবার কখনো ভোর রাতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ধানের ক্ষেতে নামে।
যে জমিতে এরা নামে এ জমির ফসল সম্পূর্ণ নস্ট করে ফেলে। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই, এই পাহাড়ের কিনার দিয়ে যেন তারকাটা বেড়া দেয়া হয়, তাহলে আমাদের ফসল আর নস্ট হবে না।’

একই গ্রামের হেলিম মিয়া জানান, ‘রাত হলেই এদেরকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য আমরা মশাল জ্বালিয়ে দেই, যেন আগুন দেখে ওরা ভয় পায়। কিন্তু বন্য শূকররা খুবই হিংস্র। আমরা রাতে অনেক ভয় নিয়েই জমিতে ফসল পাহারা দিয়ে আসছি। এদের আক্রমণ থেকে আমরা বাঁচতে চাই।’

এদিকে সচেতনমহলের কেউ কেউ মনে করেন পাহাড়ে খাদ্যসঙ্কটের কারণে ওরা ধানের জমিতে নেমে আসছে, বনবিভাগ থেকে পর্যাপ্তখাবারের ব্যবস্থা করলে ওরা ধান খেতে আসত না।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহিদুর রহমান জানান,আসলে বনবিভাগ থেকে বন্যশূকরদের রক্ষা করার
নির্দেশনা রয়েছে। কৃষকদের ফসল বাঁচাতে কিছু পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে। মাটি থেকে ৫-৬ ফুট উঁচু করে মাচাং বানিয়ে
সেখানে টিন বেঁধে শব্দ করে কিংবা মশাল জ্বালিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেই ফসল রক্ষা করতে হবে। এদেরকে তাড়িয়ে দেয়া যেতে
পারে কিন্তু কোনভাবেই তাদেরকে মারা যাবে না। এছাড়া এ বিষয়ে আমি অবগত থাকলেও আমাদের তেমন কিছু করার নেই।
বনজঙ্গলে ওদের জন্য আমরা আলাদা খাদ্যের ব্যবস্থাও করতে পারছি না।