• আজ বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

সততা নিয়ে কাজ করলেই উন্নয়ন করা যায়: প্রধানমন্ত্রী

pm m23
❏ বুধবার, নভেম্বর ১৭, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- নিষ্ঠা, সততা, দেশপ্রেম ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তা ছিল বলেই ১২ বছরে বাংলাদেশে এত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদের ১৫তম অধিবেশনের চতুর্থ দিন বুধবার সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেনের মৃত্যুতে সংসদে আনা শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন করতে হলে নিষ্ঠাবান হতে হবে, দেশপ্রেম থাকতে হবে; দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই একটা দেশের উন্নতি করা যেতে পারে। সততা নিয়ে কাজ করলেই উন্নয়ন করা যেতে পারে। তা ছাড়া যে করা যায় না, পচাত্তরের পর ২১টা বছর দেখেছি।’

একাব্বরের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, নিষ্ঠাবান রাজনীতিকের প্রয়োজনীয়তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি। টাঙ্গাইল-৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম একাব্বর হোসেনকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গড়ে তুলছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো আদর্শিক, সৎ ও নিষ্ঠাবান যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে একাব্বরও ছিলেন। আমাদের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেওয়া ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য যাদের তৈরি করছিলাম, তাদের একজনকে হারালাম। এই মৃত্যু দেশ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। দুর্ভাগ্য তাকে হারালাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের নিষ্ঠাবান রাজনীতিক কতটা প্রয়োজন তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি। একাব্বর হোসেন ছিলেন এমন একজন নিষ্ঠাবান, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ। একাব্বর থাকলে এদেশের রাজনীতিতে অনেক অবদান রাখতে পারতো। কারণ তার সততা ও একনিষ্ঠতা ও দেশপ্রেম। একজন রাজনীতিবিদের মধ্যে যা সব থেকে বেশি প্রয়োজন। নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি যেমন ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের আবারও সেই শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিদিনই তার চিকিৎসার খবর নিচ্ছিলাম। গতকাল খবর পেলাম তার আবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। তখনই আমার সন্দেহ হলো আর বোধহয় ফিরে আসবে না। সেই ঘটনাটাই ঘটলো।

আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার আমরা সংসদ শুরু করলাম- তখন সত্যি একটি আশ্বস্ত নিয়েই ছিলাম। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা সংসদের ২০ জন সদস্যকে হারিয়েছি। বলতে গেলে প্রতিবারই সংসদ শুরু করতে হতো শোক প্রস্তাব নিয়ে। কিন্তু শোক প্রস্তাব এবার নেওয়া হলেও কোনো এমপির মৃত্যুর জন্য আলোচনা করার দরকার হয়নি বলে আশ্বস্ত ছিলাম। স্বস্তি নিয়ে শুরু করলাম ঠিকই কিন্তু ভয়াবহ আঘাতটা এলো।

তিনি বলেন, একটি সংসদে এতজন মানুষের মৃত্যু। সত্যিই যেন অস্বাভাবিক ঘটনা আামাদের জীবনে ঘটে গেলো। যারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে- তারাই যেন একে একে চলে যাচ্ছে।