🕓 সংবাদ শিরোনাম

শিশুকে ডায়াবিটিস থেকে দূরে রাখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেনদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তৈরি থাকার বার্তা দিল ”হু”বুড়িগঙ্গায় ’সাকার ফিশ’র দখলে, হুমকিতে দেশীয় মাছরোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক-৫করতোয়ার তীরে নিথর পড়ে ছিলো মস্তকহীন নবজাতক!গাজীপুরে দুই শিশুকে ‘হত্যার’ পর ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা মা’য়ের!ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনেআখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নীলফামারীর তিনদিন ব্যাপী ইজতেমাবঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর আহ্বানভোটে হেরে ক্ষোভ মেটাতে রাস্তায় বেড়া দিলেন প্রার্থী, ভোগান্তিতে পুরো গ্রাম!

  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

পরীক্ষার আগের দিন শিক্ষার্থীরা জানলো কতৃপক্ষ তাদের ফরম ফিলআপই করেনি!

Cox's Bazar news
❏ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৮, ২০২১ আলোচিত

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পেকুয়ায় ১৯ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী রাতভর অপেক্ষা করেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি। উপজেলার মগনামা আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মাসুদ বিন আবদুল জলিলের ফাঁদে পড়ে এসব শিক্ষার্থীদের কপাল পুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার এক সপ্তাহ পূর্বে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড পরীক্ষার্থীরা হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও মগনামা আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের মানবিক বিভাগের ১৯ পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পেয়ে আগের দিন রোববার রাতভর প্রবেশপত্র পাবার আশায় থানা ও বিদ্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করে। এ আতঙ্ক নিয়ে রাতভর দৌড়ঝাঁপ করায় পরীক্ষার কোনো প্রস্তুতি নিতেও পারেনি।

অনেকে দুশ্চিন্তায় বিদ্যালয়ের আঙিনায় অভিভাবকদের সাথে নিয়ে রাত কাটায়। তাদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলআপ সবকিছু হয়েছে। প্রস্তুতিও নিয়েছে সবাই। কিন্তু পরীক্ষার দিন সকালে পর্যন্ত স্কুলে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন তাদের প্রবেশপত্র আসেনি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে মানবিক বিভাগের ১৯ শিক্ষার্থী ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারেনি।

কারণ খুঁজতে গিয়ে তারা জানতে পারেন প্রধান শিক্ষক তাদের ফরম ফিলআপের সব টাকা নিলেও ফরম ফিলআপই করেননি। পরবর্তীতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীরা আরও জানতে পারে তাদের ৯ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনই করেননি ওই শিক্ষক। এই কাজটি করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাসুদ বিন আবদুল জলিল। হতভাগা ১৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন ছাত্র ও ১৩ জন ছাত্রী। সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। মানবিক বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে সোমবার থেকে।

জানা যায়, স্কুলটি নিবন্ধিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠদান করা হয় এবং নিবন্ধিত একটি স্কুলের নামে রেজিস্ট্রেশন, ফরম ফিলআপ করে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে।

পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থী মো. রাকিব জানান- ‘আমরা গত কয়েকদিন ধরে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করছিলাম যে আমাদের এডমিট কার্ড এসেছে কি না। তিনি বলেন- আসবে, তোমরা পড়ালেখা কর। এডমিট নিয়ে চিন্তা করিও না, কিন্তু রবিবার যখন স্কুলে গেলাম তখন তিনি আমাদেরকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। যখন সোমবার দেখা করলাম তখন বললেন তোমরা পরিস্থিতির শিকার, তোমরা ২০২২ সালের এপ্রিলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।’

এ বিষয়ে জানতে মগনামা আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মাসুদ বিন আবদুল জলিলের মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে পেকুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার উলফাত জাহান বলেন, ‘মগনামা আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের ১৯ শিক্ষার্থী এসে তাদের এডমিট না পাওয়ার বিষয়টি জানালে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, তাদের ফরম ফিলআপ তো দূরের কথা ৯ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত হয়নি। তাদের শুধু ২ বছর ধরে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। এই ১৯ শিক্ষার্থীর জীবন থেকে ২টি বছর হারিয়ে যাবে। স্কুলটি অনিবন্ধিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহায়তায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে জানতে পেরেছি।’

বিষয়টি প্রসঙ্গে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা বলেন, ‘মগনামা আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের ওই শিক্ষকের কারণে ১৯ জন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে ২টি বছর নষ্ট হয়ে গেল। তিনি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘একজন অভিভাবকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে। আমরা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ওই শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হবে।