• আজ সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৯ নভেম্বর, ২০২১ ৷

‘নরপশুর কবলে’ অস্ত্রের মুখে আটক মুহুর্তের ভয়ানক বর্ননা দিলো কিশোরী!

ভয়ানক নিপীড়নের
❏ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৮, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর, স্পট লাইট

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বরঃ বান্দরবান জেলা লামা উপজেলায় নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় অস্ত্রের মুখে  আটক মুহুর্তের ভয়ানক বর্ননা ফুটে উঠেছে সেই কিশোরীর জবানবন্দীতে  !

এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ভিকটিম ও তার পরিবার।

ঘটনার বর্ননায় ভিকটিম তার জবানবন্দীতে জানায়,  গত মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাগরিবের আজানের পর আমি আর আমার ছোট বোন বাড়িতে একা ছিলাম। আমার মা একটি কাজে ডুলাহাজারা গিয়েছিল। আমি যখন রান্না ঘরে রান্না করছিলাম, তখন পেছন থেকে কেও একজন  এসে আমার মুখ চেপে ধরে।

ঘুরে দেখি আমার পাশ্ববর্তী এলাকার ছেলে মোঃ সাইদুল ইসলাম। এসময় আমার ছোট বোন ভিতরের রুম থেকে আমাকে ডাকলে, আমি কথা বলতে চাইলে, সে আমার মুখে ছুরি ধরে বলে, কোন আওয়াজ করলে খুন করে ফেলবো। তখন সে আমাকে গলায় ছুরি ধরে ঘর থেকে বাহির করে পার্শ্ববর্তি  জঙ্গলে নিয়ে যায়।

জবানবন্দীতে ভিকটিম জানায়, আমি চিৎকার করতে চাইলে,গলায় ছুরি ধরে বলে, কোন আওয়াজ করলে জবাই করে দিব। আমি যা বলি, তা তা করতে হবে। অন্যথায়, ছুরি ঢুকিয়ে দিব। আমি ভয়ে কোন আওয়াজ করতে পারি নাই। ঐ নরপশু আমাকে এক ঘন্টার অধিক সময় ধরে নির্যাতন চালায়। এরপর আমি চলে আসতে চাইলে, সে আমাকে দাঁড় করিয়ে বলে,এ ঘটনা কাউকে বললে, তুমি ও তোমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করে ফেলবো।

সে এ ঘটনা আর কাউকে না বলার জন্য শপথ করায়। সে তার মাথা ও তার মায়ের কসম করে আমাকে ৩০ বারের অধিক শপথ করায়। আমি বাধ্য হয়ে শপথ করি। এরপর সে মোবাইল বাহির করে বলে, এখন আমি যা যা বলি, তা তা বলতে হবে। এর বাহিরে একটাও কথা বলতে পারবি না।

আব্দুল্লাহ ঝিরি জিয়াবুল নামে এক ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল, সে তিন বার আমার সাথে দেখা করে।পনেরো দিন পর আমি তাকে বিয়ে করবো বলে বলতে বলে। আমি ভয়ে তা বলি এবং সেই একথা গুলো রেকর্ড করে।
সে চলে গেলে,আমি বাড়ি চলে আসি।

পরে আমার ব্লিডিং বেশি হলে, আমি আর আমার ছোট বোন পাশে খালার বাড়ি গিয়ে সব ঘটনা খালাকে খুলে বলি।এরপর আমার খালা আমার আম্মু কে মোবাইল করে ঘটনা টি বললে, সে (ভিকটিম এর মা) দ্রুত বাড়িতে চলে আসে। এই ঘটনা তার ভাই আব্দু লতিফ ও ২নং ওয়ার্ডের এম ইউ পি সদস্য মোঃ কুতুবউদ্দিন মিয়াকে জানায়।

এবিষয়ে ভিকটিমের মামা আব্দুল লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, সাইদুল ইসলাম খুব খারাপ ছেলে। এর আগে একাধিক মেয়ের সাথে এরকম কাজ করছে সে। আব্দুল্লাহঝিরি একটা মেয়ের সাথে এরকম ঘটনা করে সে। পরে স্হানীয় ব্যক্তি আন্ডার টেকেন নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। তাছাড়া তিনি মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত। তার রয়েছে সক্রিয় একটি দল। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন,সাইদুল ইসলাম অত্যন্ত লম্পট ধরনের লোক। তার কারণে এলাকার কোন মেয়ে নিরাপদ নয়।

এবিষয়ে সাইদুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সে বলে, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি আব্দুল্লাহঝিরি জিয়াবুল নামে এক ছেলে তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করলে, আমি মানা করি। এতে তারা রাগান্বিত হয়ে, এমন সাজানো নাটক করছে।

সাইদুল ইসলাম এর মা ও তার স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এটা একটি সাজানো নাটক। সে এমন কাজ করতে পারে না।

জানা যায়, মোঃ সাইদুল ইসলাম হারগাজা ২নং ওয়ার্ডের মহেশখালীপাড়া সিকান্দার আলীর ছেলে।

এবিষয়ে ২নং ওয়ার্ডের এম ইউ পি সদস্য মোঃ কুতুবউদ্দিন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমি ভিকটিম এর বাড়িতে যাই। তার পরিবার কে আইনি সহযোগিতার জন্য লামা থানায় যাওয়ার জন্য বলি।

বুধবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে লামা হাসপাতালে ধর্ষিতা মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন তার মা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালে মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিম ও পরিবারকে থানায় আসতে বলি। এই বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।

লামা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত সহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ রায়হান জান্নাত বিলকিস সুলতানা বলেন, ভিকটিমের শরীরে ধর্ষণের আলামত রয়েছে। আমরা তাকে বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রেফার করেছি।