• আজ রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২১ ৷

প্রথমবার কোন ওষুধ ছাড়াই এইডস থেকে মুক্তি পাবার বিরল ইতিহাস!

এইডস থেকে মুক্তি
❏ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৮, ২০২১ আপনার স্বাস্থ্য

সময়ের কণ্ঠস্বর, স্বাস্থ্য ডেস্কঃ চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিশ্বকে তাক লাগিয়ে কোন চিকিতসা ছাড়াই ভয়ানক মরনব্যাধি এইডস থেকে মুক্তি পেয়েছেন এক নারী!

আমরা জানি, এইডস হচ্ছে মরণব্যাধি। মরণব্যাধি এইডসে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে অনেক মানুষ। অকালেই হারাচ্ছে লাখো জীবন।

সামাজিকতার ভয়ে এই রোগের কথা অনেক মানুষ প্রকাশ করতে চায় না। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক দেশে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মরণব্যাধি এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ।

এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগীদের এ মরণব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের চেষ্টার শেষ নেই। মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে চলছে গবেষণা। কিন্তু এখন অবধি সফলতার মুখ দেখেনি সেই চেষ্টা ।

তবে এ দফায় শুধুমাত্র নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জোরেই মরণব্যাধি এইডস থেকে মুক্তি পেয়েছেন এইচআইভি পজিটিভ এক নারী! এইডস ধরা পড়ার পরে তার কোনপ্রকার ওষুধ নেওয়ারই প্রয়োজন হয়নি! যা নতুন আশার আলো দেখিয়েছে বিশ্বকে। অতিবিরল এ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে আর্জেন্টিনা।

‘অ্যানালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিন’ পত্রিকায় ওই ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে।

এইডস ভাইরাস অত্যন্ত চতুর। মানবদেহে প্রবেশের পর জিনোমে নিজের রিজার্ভার তৈরি করে ডালপালা মেলতে থাকে। অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধে রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ রিজার্ভার ধ্বংস করা যায় না। ফলে বার বার অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল খেতে হয় রোগীকে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিজের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার জোরেই দুর্ধর্ষ অনুজীবকে কুপোকাত করে অসাধ্য সাধন করেছেন ঐ আর্জেন্টাইন নারী।

জার্নাল উদ্ধৃত করে ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে আর্জেন্টিনার অ্যাসপারাঞ্জার ওই বাসিন্দার শরীরে এলাইজা ও সেরোলজি পরীক্ষায় এইচআইভির লক্ষন ধরা পড়ে। ধারাবাহিকভাবে ওই রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সিং ও সেরোলজি পরীক্ষা করা হয়।

জানা গেছে, রোগ ধরা পড়ার প্রথম ছয় মাস ওই নারী ওষুধ খেয়েছিলেন। তারপর বন্ধ করে দেন। ২০১৭ সালে নারীর রিপোর্ট দেখে চমকে যান প্যাথোলজিস্টরা। শরীর থেকে বেমালুম উধাও ভাইরাসের রিজার্ভার। প্রায় দেড় লাখ মিলিয়ন রক্তকোষ বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছান বিজ্ঞানীরা।

কলকাতার ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. সিদ্ধার্থ জোয়ারদারের পর্যবেক্ষণ, এ ঘটনায় প্রমাণিত, নিজস্ব শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কেউ বেশ উন্নত। এইডস ভাইরাস নিজেদের জিনোম লিম্ফোসাইট ও ম্যাক্রোফাজ কোষের জিনোমে প্রবেশ করিয়ে বংশবিস্তার করে চলে। এই আরএনএ ভাইরাসকে শায়েস্তা করা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

তবে টি-সাইটোটক্সিক কোষ ও ন্যাচারাল কিলার সেলকে হাতিয়ার করে এইডস ভাইরাসকে আক্রান্ত কোষসহ শেষ করতে পারে কারো কারো ইমিউন সিস্টেম। এই ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটে থাকার সম্ভাবনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা।

এই ব্যাপারে গবেষকরা নিশ্চিত হলে এইডস ভাইরাস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হবে। সেলথেরাপি করিয়ে রোগীর ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে বধ করা যাবে এইডসকে। সেক্ষেত্রে অ্যান্টিরেট্রোভাইরালের সঙ্গে কদর বাড়বে ইমিনোমডিউলেটরের।

উল্লেখ্য, মরনব্যাধি এইডসের জন্য দায়ী ‘হিউম্যান ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস’ (এইচআইভি) নামের রেট্রোভাইরাসটি। মানুষের রক্ত ও অন্যান্য দেহরসেই একমাত্র বেঁচে থাকে এই ভাইরাস।

রোগীর দেহ থেকে অন্যের শরীরে ছড়ায় রক্ত ও বীর্যের মাধ্যমে। বীর্যের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বলেই এই অসুখকে ‘সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাস প্রধান কাজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া। একটা সময় সাধারণ সর্দি-কাশিকেও আটকাতে পারে না শরীর। ফলে ‘অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সি সিনড্রোম’ বা এইডসের প্রভাবে মৃত্যু অবধারিত হয়ে ওঠে।