• আজ সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৯ নভেম্বর, ২০২১ ৷

আজ যেভাবে দেখা মিলবে ৫৮০ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের!

দীর্ঘতম খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের
❏ শুক্রবার, নভেম্বর ১৯, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকাঃ এই মুহূর্তে সবথেকে আলোচ্য বিষয়টি হচ্ছে ৫৮০ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। আজ শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ থেকেও দেখা মিলবে এই বিরল ঘটনার ।

নিঃসন্দেহে যারা মহাকাশ সম্পর্কে আগ্রহ রাখেন, তাদের কাছে আজকের  এই চন্দ্রগ্রহণ অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। শুধু বিজ্ঞানি মহলে নয়, আমজনতাও আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে এই বিরল দৃশ্য দেখার জন্য।

এর স্থায়ীত্ব থাকবে তিন ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। এই সময় চাঁদের রং হবে রক্তের মতো লাল। তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্লাড মুন’ বা ‘বিভার মুন’।

চলতি শতাব্দীতে আকাশে আর এমন দৃশ্য দেখা যাবে না। খণ্ডগ্রাস হলেও ৯৭ শতাংশ গ্রহণ হবে চাঁদের। এটি চলতি বছরে সর্বশেষ ও দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ। প্রথমটি দেখা গিয়েছিল ২৬ মে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুখ জানান, বাংলাদেশের আকাশে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। তবে একেক শহরে একেক সময়ে। ঢাকায় সন্ধ্যা ৫টা ১৩ মিনিট, ময়মনসিংহে ৫টা ১১ মিনিট, চট্টগ্রামে ৫টা ১০ মিনিট, সিলেটে ৫টা ৫ মিনিট, খুলনায় ৫টা ১৮ মিনিট, বরিশালে ৫টা ১৫ মিনিট, রাজশাহীতে ৫টা ১৯ মিনিট এবং রংপুরে ৫টা ১৪ মিনিট থেকে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ।

উত্তর আমেরিকার দেশগুলো থেকে এবারের গ্রহণ সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে। অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব এশিয়া, উত্তর ইউরোপ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও দেখা মিলবে এ চন্দ্রগ্রহণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য এবং মেক্সিকো থেকেও এ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় বাটলার বিশ্ববিদ্যালয়ের হলকোম্ব অবজারভেটরি ও নাসা জানিয়েছে, শুক্রবার এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে চীন, জাপানসহ গোটা পূর্ব এশিয়ায়। এ ছাড়া উত্তর ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতেও দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ।

চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা কুসংস্কার প্রচলিত আছে। এসবের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কী-না, চলুন জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে।

পূর্ণিমার দিনে যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী চলে আসে অর্থাৎ সূর্য-পৃথিবী-চাঁদ যখন এক সরলরেখায় হয়ে যায়, তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়। এক্ষেত্রে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দেখা মেলে।

এছাড়া পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে এলেও পুরোপুরি এক সরলরেখায় না থাকলে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হয়। এক্ষেত্রে চাঁদের একটা অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে।

এই সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর দেয়া হলো সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্যঃ

প্রশ্ন: অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা চন্দ্রগ্রহণ দেখলে তাদের গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয় কি?

উত্তর: একেবারেই তা হয় না। জ্যোতিষ মতে, এমন ধারণা একেবারেই ভুল। চন্দ্রগ্রহণের সময়ে অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। এতে তার বা সন্তানের ক্ষতির কোনও সম্ভাবনাই নেই।

প্রশ্ন: চন্দ্রগ্রহণের সময়ে কিছু খাওয়া বা পান করা উচিত কী?

উত্তর: চন্দ্রগ্রহণের সময়ে খাওয়া পা পান করায় বৈজ্ঞানিকভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এমন কিছু বলা হয়নি ধর্মেও। শুধু কুসংস্কারের বশে এখনও অনেকে গ্রহণের সময়ে খাওয়া-দাওয়া বা পানি পান করেন না।

প্রশ্ন: চন্দ্রগ্রহণের সময় সত্যিই কী পশুদের ব্যবহারে পরিবর্তন দেখা যায়?

উত্তর: চন্দ্রগ্রহণের সময় পশু-পাখিরা অযথা ডাকাডাকি করে, ডানা ঝাপটায়। এর কারণ, অসময়ে অন্ধকার হয়ে যায়। ২০১০ সালে এমন তথ্য প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগ।

প্রশ্ন: মানুষের মনে কি কোনও প্রভাব ফেলে চন্দ্রগ্রহণ?

উত্তর: নাসা এমন তথ্য মানতে একেবারেই রাজি নয়। সংস্থাটির মতে, চন্দ্রগ্রহণের সময় কোনও ব্যক্তির মানসিক সমস্যা হলে তা একেবারেই তার মনের ব্যাপার। ছোট থেকে শুনে আসা ভয়গুলিই কাজ করে। এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

প্রশ্ন: চন্দ্রগ্রহণের সময় কী মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়?

উত্তর: যুক্তরাষ্ট্রের এক সমীক্ষায় এমন তথ্যই উঠে আসে। চন্দ্রগ্রহণের সময় কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা, করোনারি, ইউরিনারি, হেমারেজের সমস্যা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অনেক মানুষ। চন্দ্রগ্রহণের জন্যই যে তারা এসব সমস্যা আক্রান্ত হন, তা প্রমাণসাপেক্ষ।