দানবীর রণদার জন্মদিন ও কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন


❏ শনিবার, নভেম্বর ২০, ২০২১ ঢাকা, দেশের খবর

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার ১২৫তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। একই সাথে কুমুদিনী হাসপাতালের ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে মির্জাপুর কুমুদিনী কমপ্লেক্সে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গতকাল শুক্রবার (১৯নভেম্বর) অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশি-বিদেশি অতিথিরা কুমুদিনী চত্বরে আসতে থাকেন। অতিথিদের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, সাংসদ সিমিন হোসেন রিমি ও আরমা দত্ত, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দীন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, তাঁর স্ত্রী শাহীন আনাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নারী নেত্রী সুলতানা কামাল, আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিরুজিমাথ সামির, জাপান দূতাবাসের উপ-প্রধান ইয়ামায়া হিরোইয়োকি, কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি ও পরিচালক শ্রীমতী সাহা প্রমুখ ছিলেন।

পরে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা। তিনি বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ৯০ বছর আগে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা উপমহাদেশে নানা ভালো পরিবর্তনে সহযোগিতা করেছে। ১৯৭১ সালে তাঁকে ও আমার বাবা ভবানী প্রসাদ সাহাকে পাকিস্থানি হানাদারেরা ধরে নিয়ে যায়। ওই সময় তাঁদের সঙ্গে এই এলাকার অন্তত ৬০ জন মানুষকে আমরা হারিয়েছি। রণদার মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া স্থাপনা হারায়নি। আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পুরো চত্বরে থাকা বিদ্যুতের আলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ভারতেশ্বরী হোমসের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতানার সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা ও আলোর পথের যাত্রী ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’সহ কয়েকটি গানের সঙ্গে মোমবাতি প্রজ্বালন করে রণদার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় অতিথিরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

অনুষ্ঠানের সুলতানা কামাল বলেন, রণদা বিষয়ে সবচেয়ে বড় কথা তাঁর জীবন দর্শন। তিনি দানকে তাঁর দায় বলে গেছেন। তিনি দায় হিসেবে সমাজের সেবা করে গেছেন। যা আমাদের সবার জন্য বিরাট বড় শিক্ষা। এই দায় থেকেই আমাদের ভালো কিছু অর্জন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসরদের সহায়তায় রণদা প্রসাদ সাহা ও ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।