• আজ বুধবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতল পাকিস্তান

sports news n
❏ শনিবার, নভেম্বর ২০, ২০২১ খেলা

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- ৬১৭ দিন পর ঘরের মাঠে দর্শক ফিরিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এ সুযোগ মাটিতে ফেলতে দেননি টাইগার সমর্থকরা। বিশ্বকাপে ভরাডুবির পরও পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ ‘হাউজ ফুল’ ছিল। ওই ম্যাচ ৪ উইকেটে হারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

তবুও সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকেননি সমর্থকরা। স্বাগতিকদের সিরিজে ফেরার লড়াইয়ে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ’, বাংলাদেশ’ ধ্বনিতে মুখরিত করেছেন গোটা স্টেডিয়াম।

সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক রিয়াদ বলেছিলেন, এই সিরিজ দিয়ে সমর্থকদের বিশ্বাস ফেরাতে চায় তার দল। নিশ্চিত করেই বলা যায়, সে কথাও রাখতে পারলেন না অধিনায়ক। প্রথম ম্যাচে স্কোরবোর্ডে ১২৭ রান তুলেও ৪ উইকেটে হার।

আজ (শনিবার) দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ব্যর্থ টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপ। পুঁজি মাত্র ১০৮ রানের। যা অনুমেয় সেটিই হলো শেষপর্যন্ত। পরাজয় ৮ উইকেটে। এতে ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সিরিজ জয়টিও নিশ্চিত করে রাখল সফরকারীরা। ফলে শেষ ম্যাচটি এখন পরিণত হয়েছে কেবলই আনুষ্ঠানিকতায়।

এদিন মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুদল। যেখানে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ২ উইকেট হারিয়ে ও ১১ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

১০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে পাকিস্তানের অধিনায়ক ও ওপেনার বাবর আজমকে (১) বোল্ড করে ফেরান বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে স্বাগতিক বোলারদের পাত্তাই দেননি দুই পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ফখর জামান। তারা ৭৮ বলে ৮৫ রান তুলেই মূলত দলের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন। মাঝে অবশ্য আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের করা বলে দুটি ক্যাচ মিস করেন সাইফ হাসান ও তাসকিন। কিন্তু জয় পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি সফরকারীদের।

শেষ দিকে এসে বিপ্লব রিজওয়ানকে তুলে নেন। এই ওপেনার ৪৫ বলে ৪টি চারে ৩৯ করে সাইফকে ক্যাচ দেন। ফখর জামান ৫১ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন।

টস জিতে এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ধীরগতির শুরু পায় বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম ওভার থেকেই আগুন ঝরা বোলিং শুরু করেন। চতুর্থ বলে মিসফিল্ডিংয়ের সুযোগ কোনোমতে এক রান নেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। স্ট্রাইকে যান গত ম্যাচে অভিষিক্ত সাইফ। কিন্তু আজও তিনি ব্যর্থ। শাহিনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে তিনি গোল্ডেন ডাক মারেন। আম্পায়ার প্রথমে নট আউট ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। ১ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পরের ওভারে ওয়াসিমের বলে ফখর জামানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাঈম।

দ্রুত দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পথ দেখাচ্ছিলেন শান্ত ও আফিফ। দুজনে মিলে ভালো জুটিও গড়েন। কিন্তু এর মাঝেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ফিরতি ওভারের দ্বিতীয় বলে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান আফিফ। বিষয়টি হজম করতে না পেরে পরের বল আফিফ ঠেকিয়ে দেওয়ার পর হাতে পেয়ে সজোরের ব্যাটারের দিক ছুটে মারেন পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার।

ওই সময় আফিফ স্ট্রাইকিং প্রান্তে ক্রিজের মাঝেই ছিলেন। ফলে আফ্রিদির থ্রো স্টাম্পে লাগলেও তিনি আউট হতেন না। বলের প্রচণ্ড আঘাতে আফিফ ব্যথায় মাটিতে শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। মাঠে কিছুক্ষণ প্রাথমিক চিকিৎসার পর আফিফ সুস্থ হলে ফের খেলা শুরু হয়। পরের বলটিই তিনি স্কয়ার লেগ দিয়ে পাঠিয়ে দেন সীমানার বাইরে। একেবারে যোগ্য জবাব যাকে বলে! তবে আফিফের ইনিংস থামে ২০ রানেই, শাদাব খানের বলে উইকেটরক্ষক রিজওয়ান ক্যাচ নেন।

এরপর হতাশ করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ৬ রান, দ্বিতীয় ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এলো মাত্র ১২ রান। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক পাকিস্তানি পেসার হারিস রৌফের বাইরের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। পরের ওভারে শাদাব খানের স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন দারুণ খেলতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচে ব্যর্থ শান্ত আজ ফিরেছেন ৫ চারে ৪০ রানের ইনিংস খেলে। দারুণ এই ইনিংস খেলার পথে আফিফ হোসেনের সঙ্গে ৪৬ রান এবং মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ২৮ রানের জুটি গড়েন শান্ত।

শান্ত বিদায় নেওয়ার পর বাংলাদেশের রানের গতি কমতে শুরু করে। এক ওভার বিরতির পর বিদায় নেন মেহেদী হাসানও। আগের ম্যাচে ৩০ রান করা মেহেদী (৩) আজ মোহাম্মদ নওয়াজের বলে তুলে মারতে গেলে বল তার ব্যাটে লেগে বোলারের তালুবন্দি হয়। আগের ম্যাচে ২৮ রান করা নুরুল আজ থেমেছেন ১১ রানেই, শাহিনের বলে রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে। এরপর শেষ ওভারে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও তাসকিন আহমেদ মিলে তোলেন মাত্র ৪ রান।