• আজ সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা চাইলেন বিচারক কামরুন্নাহার

Hi court news
❏ সোমবার, নভেম্বর ২২, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- স্থগিতাদেশ থাকার পরও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ক্ষমা চেয়েছেন আলোচিত বিচারক (বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত) মোছা. কামরুন্নাহার।

সোমবার (২২ নভেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে হাজির হয়ে তিনি ক্ষমা চান। পরে আদালতের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে এ দিন শুনানিকালে কোনও সাংবাদিককে কোর্টে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আপিল বিভাগের কর্মচারীদেরও কোর্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার শুনানি হয়। তবে এ মামলায় কী আদেশ হয়েছে তা জানা যায়নি।

তলব ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকার পরও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গত বছরের ১২ মার্চ তলব করেছিলেন আপিল আদালত। ওই বছরের ২ এপ্রিল কামরুন্নাহারকে আদালতে হাজির হতে বলেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হলেও তখন করোনার (কোভিড-১৯) কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা আর জানা যায়নি। আজ ওই মামলার বিষয়টি কার্যতালিকায় শুনানির জন্যে আসে।

২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল থানায় একটি বেসরকারি টিভির উপস্থাপক আসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় ২০১৯ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৫ জুন আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালত জামিন স্থগিত করেন।

এ দিন জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকা এবং আপিল বিভাগের চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ থাকার পরও গত বছরের ২ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক কামরুন্নাহার তাকে জামিন দেন।

সর্বোচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের পরও আসামিকে জামিন দেওয়ার বিষয়টি আপিল বিভাগের নজরে আনেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল (বর্তমানে মরহুম) অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। তিনি ওই সময় আদালতকে বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ থাকার পরও আসামিকে নিম্ন আদালতের জামিন দেওয়াটা আদালত অবমাননার শামিল। এভাবে জামিন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১২ মার্চ আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিচারককে ব্যাখ্যা জানাতে আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে আসলাম সিকদারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন।