• আজ বুধবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ মেয়র পুত্রের

ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন
❏ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৫, ২০২১ ঢাকা, দেশের খবর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বরঃ  শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় স্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য কলেজছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে ধর্ষণের মামলায় জাজিরা পৌরসভার সাবেক মেয়র ইউনুছ বেপারীর ছেলে মাসুদ বেপারীকে (৩১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ: ছালাম খান এ রায় দেন।

এ সময় আদালতে আসামি উপস্থিত ছিলেন। বাদি পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান রোকন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি মাসুদ বেপারী জাজিরা পৌরসভার সাবেক মেয়র ইউনুছ বেপারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২০১৯ সালের ৩০ জুন জাজিরা থানায় মামলা করেন ওই ছাত্রী।

আদালত সূত্র জানায়, ওই মামলার ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাসুদ বেপারী ও শরীফ সরদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত ১০ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া করেন। ১৩ জন সাক্ষী এবং আটজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আজ বিচারক মাসুদ বেপারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন এবং একই সাথে শরীফ সরদারকে বেকসুর খালাস দেন।

দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি মাসুদ বেপারী জাজিরা পৌরসভার হরিয়াশা গ্রামের বাসিন্দা ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২০১৯ সালের ২৯ জুন রাতে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হন। ওই দিন বিকেলে মাসুদ বেপারী তার স্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য কলেজছাত্রীকে বাড়িতে আসতে বলেন। ওই মেয়ে কাজ শেষ করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাসুদের বাড়িতে যান।

সেখানে মাসুদের পরিবারের কাউকে না দেখে ওই ছাত্রী ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তখন মাসুদ তাকে ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মেয়েটি মাসুদের বাড়ি থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে ওই মহল্লার কয়েকজন নারী তাকে উদ্ধার করেন। পরের দিন জাজিরা থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রী। ১ জুলাই আদালতের মাধ্যমে মাসুদ ব্যাপারীকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, শরীফ সরদারকে বেকসুর খালাস দিয়েছে ও মাসুদ ব্যাপারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন, এতে আমি খুশি হতে পারিনি। আমি তাদের ফাঁসি চাই।

এদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী মো: কামরুজ্জামান (নজরুল) বলেন, আসামি পক্ষ সংশিষ্ট মামলার রায়ে সংক্ষুব্ধ ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রায়ের বিপক্ষে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।