• আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

কারা বিদেশে টাকা পাচার করে জানি না: সংসদে অর্থমন্ত্রী

mustofa kamal
❏ শনিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন, কারা বিদেশে টাকা পাচার করে, তা তিনি জানেন না। তিনি বিদেশে টাকা পাচার করেন না। তিনি কীভাবে জানবেন, কারা টাকা পাচার করে? তিনি টাকা পাচারকারীদের তালিকা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

আজ শনিবার জাতীয় সংসদে একটি বিল পাসের আলোচনায় বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ অভিযোগ করেন, বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। এসব বিষয়ে তাঁরা অর্থমন্ত্রীর জবাব চান এবং একটি ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি তোলেন। শুরুতে অর্থমন্ত্রী এসব বিষয় নিয়ে নীরব থাকায় সাংসদদের সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে অর্থমন্ত্রী মুখ খোলেন।

টাকা পাচার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকভাবে বলেছেন, এ সংসদেও বলেছেন, দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। আমি আপনাদের বলেছি, যারা পাচার করে, তাদের তালিকা আমাকে দেন। আমি তো পাচার করি না। আমি বিশ্বাস করি, আপনারাও পাচার করেন না। সুতরাং পাচার কে করে, আমি জানব কেমন করে, যদি আপনারা না দেন।’

এ সময় বিরোধী দলের সদস্যদের অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে কিছু বলতে দেখা যায়। তবে মাইক বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য শোনা যায়নি। তাঁদের কথার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, ইয়েস আপনারা বলেন। আপনারা লিস্ট দেন, পাচারকারীদের।’

তখন একজন সদস্য বলেন, এটা অর্থমন্ত্রী বলবেন, কারা পাচার করবে। তখন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, অর্থমন্ত্রী বলতে পারবেন না। একটা কথা আমি আবারও বলি, আপনারা আমরা কিন্তু একই পথের পথিক। আমরা আপনি যেটা জানেন, আমিও সেটা জানি। বারাবার আমি বলেছি, আমি জানি না। আমাকে জানান দেন।’

এ পর্যায়ে বিরোধী দলের একজন সদস্য কিছু একটা বলেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে, প্লিজ, কাম উইথ আ লিস্ট।’

এ সময় বিরোধী দল থেকে কিছু একটা বলা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আরে, আবার এক কথা! আমি তো বলছি, আমি কোথায় পাব? আপনি আমাকে বলেন। আচ্ছা ঠিক আছে, অলরাইট, আমি দেখব।’

আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালক হলো সেদেশের ব্যাংকিং সেক্টর। সারাবিশ্বের অর্থনীতি যখন টালমাটাল অবস্থা সবাই কিন্তু বলছেন আমরা ভাল করছি। আপনার কাছে যদি কোনও প্রমাণ থাকে যে আমরা তাদের চাইতে অর্থনৈতিকভাবে পেছনে আছি, তাহলে ইন দ্যাট কেস ইউ কাম টু মি, আই উইল গেট ইউ টু দ্যা সল্যুশন।’

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি এখন একটি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছে। সারাবিশ্বের অর্থনীতি ৩ শতাংশ কনট্র্যাকশন হয়েছে। কিন্তু দেশে এটি হয়নি। বলা হচ্ছে ২০৩৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিমাণ হবে সারাবিশ্বে ২৫তম। অথচ আপনারা যেভাবে বলেন মনে হয়- দেশে কোনও অর্থনীতি নেই, কোনও ব্যাংকিং খাত নেই, দেশে কিছুই নাই। কিন্তু কিছুই যদি না থাকবে এগুলো বাদ দিয়ে আমরা উন্নতি করছি কীভাবে? এগুলো বাদ দিয়ে আমাদের প্রবৃদ্ধি আসছে কীভাবে?’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা বেড়েছে, গ্রাহক বেড়েছে, আমানতও বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেশসৃষ্টির পর থেকে সবচেয়ে কম এখন। ২০০৬ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের কোয়ার্টার পর্যন্ত ১লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এটা ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। সবচেয়ে কম এখন। প্রত্যেকটা ব্যাংক লাভে আছে। ঋণ নিয়ে যারা অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ই-কমার্সের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। চলমান মামলা সংখ্যা ২ লাখ ৪৩ হাজার।