• আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকেছে চকরিয়া-পেকুয়া

Cox's Bazar news
❏ রবিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়া ও পেকুয়ার ১৬ ইউনিয়নে আগামিকাল রোববার (২৮ নভেম্বর) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও মালামাল ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। তবে ব্যালেট যাবে সকাল বেলা।

এ উপলক্ষে প্রশাসন, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার ভোটারদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা শুরু হয়েছে। দাগী সন্ত্রাসী ও মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

অপরদিকে সকল প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুক্রবার রাত ৮টার পর থেকে থেমে গেছে। কয়েকটি ইউনিয়নে ছোট ছোট কয়েকটি ঘটনা ছাড়া বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আগামিকাল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বেশির ভাগ সরকার দলীয় মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ধরাশায়ী হওয়ার আশংকা আছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

অপরদিকে বেশির ভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্ব স্ব কেন্দ্রে ভোট গননা করে ভোটারদের ভোটের প্রতিফলন বাস্তবায়ন করতে হবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থীরা মুখোমুখি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। তাদের কারণে ভোটগ্রহণকালে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় আছেন তারা। এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়া চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা ও পুরুষ সদস্যসহ মোট ৫৬৫ জন প্রার্থী রয়েছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থীরা:

বদরখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরে হোছাইন আরিফ (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু নাইম মো. হেফাজ (চশমা- আওয়ামী বিদ্রোহী), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (আনারস- আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী, নৌকা প্রার্থীর বোন জামাই), আহসানুল কাদের চৌধুরী সাব্বির (মোটরসাইকেল- বিএনপি), জাকের আহমেদ (ঢোল- স্বতন্ত্র), আলী আকবর (অটোরিকশা- স্বতন্ত্র), মিজানুর রহমান (ঘোড়া- স্বতন্ত্র), শামসুদ্দীন (টেবিল ফ্যান- স্বতন্ত্র) ও জসিম উদ্দিন (টেলিফোন- স্বতন্ত্র)। এই ইউনিয়নে মূল লড়াই হবে ৪ জনের মধ্যে। নৌকা, মোটরসাইকেল, আনারস ও চশমা প্রতীকের প্রার্থীরাই মূল প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকছেন।

পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা), ওয়াহেদ ফয়েজ মোঃ সামউনুল ইসলাম (চশমা- স্বতন্ত্র), নিয়ামত উল্লাহ (মটর সাইকেল- স্বতন্ত্র), নুরুল বশর চৌধুরী বাচ্চু (টেলিফোন- স্বতন্ত্র), রবিউল এহেছান (আনারস- আওয়ামী বিদ্রোহী)। এই ইউনিয়নে নৌকার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বিদ্রোহী প্রার্থী আনারসের সাথে।

সাহারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহসিন বাবুল (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নবী হোছাইন চৌধুরী (আনারস- স্বতন্ত্র), আবু তৈয়ব (ঘোড়া- স্বতন্ত্র), আবদুল আলীম (অটোরিকশা- স্বতন্ত্র), মাহমুদুল হাসান (মোটরসাইকেল- স্বতন্ত্র), মুহাম্মদ খানে আলম (টেলিফোন- স্বতন্ত্র) ও জুনাইদুল হক (চশমা- স্বতন্ত্র, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী)। এই ইউনিয়নে মূল লড়াই হবে ত্রি-মুখী। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া ও আনারসের প্রতিদ্বন্ধিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ইউনিয়নে ভোট হবে ইভিএমে।

কোনাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাফর আলম ছিদ্দীকী (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. রুহুল কাদের মানিক (লাঙ্গল), আওয়ামী বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার (মোটর সাইকেল), মোঃ নুরুল কবির (আনারস- স্বতন্ত্র), আবদুল মাবুদ (চশমা- বিএনপি), মোহাম্মদ ইয়াছিন (ঘোড়া- স্বতন্ত্র, বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদারের আপন ভাইপো) ও আনোয়ারুল ইসলাম (রজনীগন্ধা- স্বতন্ত্র)। এই ইউনিয়নে মূল লড়াই হবে চতুর্মুখী। লাঙ্গল, আনারস, মোটর সাইকেল ও নৌকার প্রতীকের প্রার্থীরা থাকছেন মূল প্রতিদ্বন্ধিতায়।

ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এস এম মঈন উদ্দিন আহমদ চৌধুরী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আলম (আনারস- বিএনপি), কফিল উদ্দিন (ঘোড়া- স্বতন্ত্র), মোঃ হোছনে মোবারক (চশমা- জামায়াত), সাইফুল ইসলাম (টেলিফোন- স্বতন্ত্র), ফরিদুল আলম (মোটর সাইকেল- স্বতন্ত্র, ইউনিয়ন কৃষকলীগ সভাপতি) ও মোহাম্মদ হোছাইন (অটোরিকশা- স্বতন্ত্র)। এই ইউনিয়নে মূলত লড়াই হবে নৌকা ও আনারস প্রতীকের প্রার্থীর সাথে।

ভেওলা মানিকচর ইউনিয়ন (বিএমচর) ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদিউল আলম (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম জাহাঙ্গীর আলম (আনারস- বিদ্রোহী নৌকা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শামসুল হক (হাতপাখা), নাছির উদ্দিন (ঘোড়া- স্বতন্ত্র) ও মোহাম্মদ আলমগীর (চশমা- স্বতন্ত্র)। এই ইউনিয়নে লড়াই হবে আনারস ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে।

পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারহানা আফরিন মুন্না (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আনোরুল আরিফ (ঘোড়া- বিএনপি), কামরুজ্জামান সোহেল (আনারস- আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী, ইউপি কৃষকলীগ সভাপতি), মো. আব্দুল্লাহ (চশমা- স্বতন্ত্র) ও মো. সালাহ উদ্দীন (মোটর সাইকেল)। এই ইউনিয়নে মূলত লড়াই হবে ঘোড়া ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে।

কৈয়ারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জন্নাতুল বকেয়া রেখা (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মক্কি ইকবাল (ঘোড়া- স্বতন্ত্র), আফজলুর রহমান চৌধুরী (চশমা- নৌকা বিদ্রোহী), মোহাম্মদ জকরিয়া (টেবিল ফোন- স্বতন্ত্র), তৌহিদুল ইসলাম (মোটরসাইকেল- স্বতন্ত্র), হিশাম উদ্দিন (অটোরিকশা- স্বতন্ত্র, ছাত্রলীগ), আনিচ উর রহমান জুয়েল (রজনীগন্ধা- স্বতন্ত্র), মামুনুর রশিদ (টেলিফোন- বিএনপি) ও আব্দুর রহমান আবেদ (আনারস- স্বতন্ত্র)।

এই ইউনিয়নে মূলত লড়াই হবে ত্রি-মুখী। টেবিল ফ্যান, ঘোড়া ও আনারস প্রতীকের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকছেন। বলা যায়, এই ইউনিয়নে সরকারী দলের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অনেকটা দূর্বল।

এই ইউনিয়নে মূলত লড়াই হবে ত্রি-মুখী। টেবিল ফ্যান, ঘোড়া ও আনারস প্রতীকের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকছেন। বলা যায়, এই ইউনিয়নে সরকারী দলের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অনেকটা দূর্বল। কাকারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত ওসমান (নৌকা), শাহাব উদ্দিন (চশমা- আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) ও মোহাম্মদ ইসমত-ই ইলাহী (আনারস- আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র)। এই ইউনিয়নে মূলত লড়াই হবে নৌকা ও চশমা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে।

লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিউদ্দিন মোঃ আওরঙ্গজেব বুলেট (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার (ঘোড়া- স্বতন্ত্র), সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ (মোটরসাইকেল- স্বতন্ত্র, বিএনপি), মোহাম্মদ ওসমান (আনারস- স্বতন্ত্র, যুবলীগ) ও সাইকুল ইসলাম (চশমা- স্বতন্ত্র, যুবলীগ)। এই ইউনিয়নে লড়াই হবে ত্রি-মুখী। ঘোড়া, মোটরসাইকেল ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা থাকবেন মূল প্রতিদ্বন্ধিতায়। এই ইউনিয়নে ভোট হবে ইভিএম মেশিনে।

নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে দুই উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে র‌্যাব-১৫।

র‌্যাব-১৫ এর সিইও লে. কর্ণেল খাইরুল ইসলাম  বলেন, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। যেখানেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

যোগাযোগ করা হলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ শুরু করেছে। আশা করছি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।