শরীয়তপু‌রে বে‌পরোয়া বালু খে‌কোরা, হা‌রি‌য়ে যা‌চ্ছে ছোট-বড় জলাশয়!

Shariyatpur news
❏ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩০, ২০২১ ঢাকা

নয়ন দাস, শরীয়তপুর প্র‌তি‌নি‌ধি: শরীয়তপুর জেলায় বালু খেকোরা অনেক বেশি ‘বেপরোয়া’ হয়ে উঠেছেন। জেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত একই অবস্থা। জেলার ৬টি উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার নদ-নদী, খাল-বিল ও ফসলি জমি‌তে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব‌সি‌য়ে বালু উত্তোলন করছেন এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

পদ্মার মাঝ প‌য়েন্ট থে‌কেও বালু জাহা‌জে ক‌রে নদী পা‌ড়ে এ‌নে ড্রে‌জিং ‌সি‌স্টেমে লোড আন‌লোডে বি‌ক্রি কর‌ছে। যা প‌রি‌বেশ আই‌নে অপরাধ বলা হ‌লেও প্রকা‌শ্যেই চল‌ছে তা‌দের এসকল কার্যক্রম। এ‌তে এ‌কের পরএক ভারাট হয়ে যা‌চ্ছে শত`শত বছ‌রের পু‌রনো দীর্ঘি ও জলাশয়। স্থানীয় প্রশাসন এসবের বিরুদ্ধে টুকিটা‌কি অভিযান পরিচালনা করলেও বন্ধ করতে পার‌ছে না তা‌দের ড্রেজিং কাজ। বরং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বালু খেকোরা প্রকাশ্যেই কর‌ছেন এসব অপকর্ম। যদিও প্রশাস‌ন বল‌ছে অ‌বৈধ ড্রে‌জিং বন্ধে তা‌দের অভিযান অব‌্যহত রয়েছে।

স‌রেজ‌মি‌নে ঘু‌রে দেখা গে‌ছে, শরীয়তপুর জেলা সদ‌রের পালং স্কুল রো‌ড মুক্তি‌যোদ্ধা ভব‌নের পিছনে শত বছ‌রের এক‌টি র্দীঘি‌কে ড্রেজার মে‌শি‌ন দি‌য়ে বালু এ‌নে ভরাট কাজ চল‌ছে। দী‌র্ঘিটির বে‌শিরভাগ অংশে ইতোম‌ধ্যে ভরাট কাজ শেষ ক‌রে ফেল‌ছে তারা। এক সম‌য়ের ই‌তিহা‌সে উ‌ঠে আসা দীর্ঘিটি বর্তমা‌নে বালু‌তে দৃশ্যমান। এমন বালু ব্যবসায়ী‌দের কর্যক্রম চলমান র‌য়ে‌ছে জেলা শহর জু‌ড়ে। শরীয়তপুর পৌরসভার ‌৯টি ওয়া‌র্ডের মা‌ধ্যে ধানুকা, আংগা‌রিয়া, পালং, উত্তর পালং, রাঞ্জগন্জ নদীরপাড় সহ বি‌ভিন্ন উপ‌জেলা শহর ও ইউ‌নিয়নের প্রতান্ত অঞ্চল পর্যন্ত বে‌পরোয়া বালু খে‌কোরা।

জানা গে‌ছে শরীয়তপুর পৌরভার কাউ‌ন্সিল‌রদের একাংশ এই ডে‌জিং ব্যবসার সা‌থে জ‌ড়িত। তারা স্থানীয় প্রশাসন‌কে হাত ক‌রে অহরহ চালা‌চ্ছে তা‌দের বালু কার্যক্রম। তা‌দের ক্ষমতার কা‌ছে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযান শুধুই লোক দেখা‌নো মাত্র বল‌ছেন স্থানীয় স‌চেতন মহল। য‌দিও ড্রেজিং‌য়ে জ‌ড়িত ব্য‌ক্তিরা বল‌ছে স্থানীয় রাজ‌নী‌তি‌তে জ‌ড়িত প্রভাবশালী ব্য‌ক্তি‌দের নাম। এমন অ‌ভি‌যোগ পাল্টা অ‌ভি‌যো‌গের ম‌ধ্যেই শেষ হয়ে যা‌চ্ছে জলাশয় ভরাট কাজ। আইন প্রয়ো‌গে উদাশীনতা প্রকাশ পা‌চ্ছে জন সাধার‌নের মা‌ঝে। ড্রেজার ব‌্যাবসার সা‌থে জ‌ড়িত এক‌ধিক ক্ষমতাশীন দ‌লের নেতা ও জনপ্র‌তি‌নি‌ধিদের নাম সরাস‌রি অনুসন্ধা‌নে উঠে এ‌সে‌ছে। তা‌দের প্রভাব বিস্তা‌রের ফ‌লে বন্ধ হ‌চ্ছে না এসকল ড্রেজার।

জেলা শহ‌রের রাজগঞ্জ এলাকার কৃ‌র্তিনাশা নদীর পা‌শে গত ক‌য়েক বছর ধ‌রে লোড-আন‌লোড এর প্রায় ৫টি ড্রেজার দিনরাত চল‌ছে। নি‌জে‌দের দ্ব‌ন্দে আরো ক‌য়েক‌টি ড্রেজার বন্ধ অবস্থায় রয়ে‌ছে। এসকল ড্রেজারগু‌লো বড় পদ্মার থে‌কে বৈধ ও অ‌বৈধ উপা‌য়ে বালু এ‌নে তা‌দের কার্যক্রম চলমান রে‌খে‌ছে। তা‌দের বিরু‌দ্ধে বিভিন্ন সম‌য়ে বালু মহল থে‌কে বালু না এ‌নে অ‌বৈধ উপা‌য়ে বালু তোলার অ‌পরা‌ধে ভ্রাম্যমান আদালত জ‌রিমানা গুন‌ছে। ত‌বে স্থানীয় প্রশাস‌নের স‌ঠিক নজরদারীর অভা‌বে সরকা‌র প্রতিবছর হারা‌চ্ছে কো‌টি কো‌টি টাকা রাজস্ব।

নাম প্রকাশ না করার শ‌র্তে স্থানীয় অ‌নে‌কেই ব‌লছেন, শরীয়তপু‌র জেলা শহ‌রে ও বিভিন্ন উপজেলায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে একের পর এক পুকুর ও জলাশয় ভরাট কর‌ছে এক‌টি শ্রেণীর প্রভাবশালীরা। তারা জেলার প্রাণ কেন্দ্রের শত শত বছর পুর‌নো জলাশয় গু‌লোর বে‌শিরভাগ ভারাট ক‌রে ফে‌লে‌ছে। এছাড়া বি‌ভিন্ন সড়‌কের উপর দি‌য়ে ড্রেজার পাইপ ব‌সি‌য়ে এসব কাজ কর‌ছেন এলাকার জনপ্রতি‌নি‌ধি এবং নেতারা। গ্রাম অঞ্চলগু‌লো‌তে বে‌শির ভাগ ফস‌লি জমি থেকে অবা‌ধে বালু-মাটি উত্তোলন ক‌রে তা ফুট হি‌সে‌বে বি‌ক্রি করা হ‌চ্ছে। ফলে জেলায় দি‌নে দি‌নে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কৃষিজমি। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় ভূ‌মি অ‌ফিস ও উপ‌জেলা প্রশাসনে অ‌ভি‌যোগ জা‌নি‌য়ে বন্ধ কর‌তে পা‌রে‌নি তা‌দের দৌরাত্ম্য।

এ বিষ‌য়ে কথা হলে সদর উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার (ইউএনও) মনদীপ ঘড়াই ব‌লেন, যে কোন মাধ্য‌মে খবর পে‌লে অ‌ভিযান চা‌লি‌য়ে বন্ধ ক‌রে দেওয়া হ‌চ্ছে ড্রেজিং ব‌্যবস্থা। ক‌য়েক‌দিন আগে পালং স্কুল রো‌ডের পা‌শে এক‌টি র্দীঘি ভরাটের খবরে সহকারী ভূ‌মি ক‌মিশনার‌কে দি‌য়ে অ‌ভিযান প‌রিচালনা ক‌রে বন্ধ করা হয়‌ছে। বন্ধের বিষ‌য়ে নজরদারী কর‌তে পালং ভূ‌মি অ‌ফিস‌কে বলা হ‌য়ে‌ছিল। অ‌বৈধ ড্রেজা‌রের বিষ‌য়ে প্রশাস‌ন খবর পে‌লেই জেল-জ‌রিমানা করা হ‌চ্ছে। ত‌বে সাধারন মানুষ‌কে এ সকল সি‌স্টে‌মের বিরু‌দ্ধে আ‌রো বে‌শি সচেতন হওয়া প্রয়োজন ব‌লে ম‌নে ক‌রেন এই কর্মকর্তা।