• আজ সোমবার, ১০ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

কক্সবাজারে স্থগিত হওয়া ৪ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ চলছে

vote n2
❏ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩০, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: নির্বাচনী সহিংসতার কারণে স্থগিত হওয়া কক্সবাজারের চার ইউনিয়নের পাঁচ কেন্দ্রের পুনঃভোট গ্রহণ চলছে।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোট একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে ভোটারদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

এসব কেন্দ্রের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের ভাগ্য। বিজয়ের শেষ হাসি দেখতে মুখিয়ে আছে ভোটার এবং প্রার্থীরা। আগেই প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের স্থগিত হওয়া ভোটকেন্দ্র সমূহের ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখে প্রশাসন। বেশ কয়েক দফা জেলা প্রশাসক এবং জেলা নির্বাচন অফিসার ৪ ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করে ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসার এসএম শাহাদাত হোসেন জানান, আজ ৩০ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্থগিত হওয়া ৪ ইউপির কেন্দ্র সমূহের ভোট গ্রহণ চলবে। কেন্দ্রে ব্যালট পেপার সকালে পৌছবে। ভোটার এবং প্রার্থীদের সুবিধার জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট করতে র্যাব,বিজিবি,পুলিশ, ম্যাজিষ্ট্রেট থাকবে কঠোর অবস্থানে। থাকবে ভ্রাম্যমাণ টিম। কোন ধরণের অনিয়ম সহ্য করা হবেনা।

আজ অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রসমুহ হলো টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্র। উক্ত কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ৪৪২৭টি। এই ইউনিয়নের ১নং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ও ৩নং সাধারণ সদস্যের ভাগ্য ঝুলে আছে উক্ত নির্বাচনের উপর। আজ শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ শেষে নির্ধারিত হবে কে হবেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পরবর্তী চেয়ারম্যান, ১নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য ও ৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য।

কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ৩নং সংরক্ষিত সদস্য ও ৭নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্যের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। বড়ঘোপ ইউনিয়নে স্থগিত হওয়া একটি কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ২,৪৭৯টি।

ভেট চলবে সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের স্থগিত হওয়া তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য ও সাধারণ সদস্যের ভাগ্য নির্ধারিত হবে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে। এ কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ২,৪৭০টি।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোঃ শাহজাহান সিদ্দিকী এগিয়ে থেকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন স্বতন্ত্র প্রাথী মোঃ নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে। আলোচিত এ কেন্দ্রে ১১ নভেম্বর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে একজন নিহত হন এবং ১২ জন আহত হয়েছিল। প্রশাসন নিরুপায় হয়ে উক্ত কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখে। সে সময় মেম্বার প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থক ও আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আক্তারুজ্জামান পুতু নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

অপরদিকে উখিয়া উপজেলার আলোচিত হলদিয়া পালং ইউনিয়নের নলবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আজ চোখ থাকবে পুরো জেলাবাসীর। এ কেন্দ্রে ঝুলে আছে হেভিওয়েট চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও অধ্যক্ষ শাহ আলমের ভাগ্য। সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিবের ভাই শাহ আলম দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ইমরুল কায়েস চৌধুরীকে নানা হয়রানি ও ভোটার ভাগাতে অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ৩,৩০৫টি। এ ইউনিয়নে আজ নির্ধারিত হবে ২নং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ও ৫নং সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্যদের ভাগ্য।

জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ জানান, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর বিধি ৩৭ অনুযায়ী বন্ধ ঘোষিত উক্ত কেন্দ্র সমূহে আজ পুন: ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিকেন্দ্রে ১ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, টহল টিম, স্ট্রাইকিং ফৌর্স, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবেনা।

ভোটারের উপস্থিতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সব করা হবে। নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ এবং পেশীমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।