শাহজাদপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট! আহত ২

news n23
❏ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩০, ২০২১ দেশের খবর, রাজশাহী

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মধ্যরাতে একটি বাড়িতে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার সম্পদ লুটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নীল রতন কর্মকার (৪০) ও শিউলি রানী কর্মকার (৫০) নামে বাড়ির দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

আহত নীল রতন কর্মকারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনায়েতপুর খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, (২৯ নভেস্বর) সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টায় শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের বড় বেতকান্দি/কামার বেতকান্দি গ্রামের সাধন কর্মকারের বসতবাড়িতে অবস্থিত সুমা জুয়েলার্সে ৫-৮ জনের একদল দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে।

এসময় জুয়েলার্সের কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটপাট চালায়। পরে দুষ্কৃতকারীরা কর্মচারী ভজন কর্মকার (২৬) ও খোকন কর্মকার (২৬) কে অস্ত্রের মুখে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে বাড়ির মালিককে ডাকে। সাধন কর্মকার দরজা খুলে দিলে দুষ্কৃতকারীরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে লুটপাট করে, এভবে বাড়ির প্রায় প্রতিটি ঘরে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করে।

জুয়েলার্স ও বাড়ির মালিক সাধন কর্মকার জানান, দুস্কৃতকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা সাধন কর্মকারের ছেলে নীল রতন কর্মকারকে লোহার রড ও ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে নীল রতন কর্মকার গুরুতর আহত হন। এসময় তাকে বাঁচাতে তার চাচি শিউলি রানী কর্মকার এগিয়ে এলে দুষ্কৃতকারীরা তাকেও মাথায় আঘাত করে।

পরে বাড়ির সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য সাধন কর্মকারের মা রেনুবালা কর্মকারসহ সবাইকে একটি ঘরে হাত পা বেধে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। লুটপাট শেষে দুষ্কৃতকারীরা যাওয়ার পূর্বে হুমকি দিয়ে বলে কাউকে কিছু জানালে তোদের প্রাণহানি ঘটানো হবে।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টায় শাহজাদপুর থানার ওসি (অপারেশন) আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে থেকে উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫টি বাড়িতে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত থানা পুলিশ বা আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কোন ঘটনারই রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। একের পর এক সিরিয়াল চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় বেলতৈল ইউনিয়নসহ উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি (অপারেশন) আব্দুল মজিদ বলেন, খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। ধারণা করা হচ্ছে স্থানীয় কেউ এই লুটপাটের ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে। তাদের পারিবারিক বিবাদকেও আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে।