• আজ মঙ্গলবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’র প্রভাব বাংলাদেশে, বেড়েছে সংকেত

jhor
❏ শনিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ঘণ্টায় ছয় কিলোমিটার বেগে উড়িষ্যা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যরাতে এটি পুরী উপকূলে পৌঁছাবে। এরপর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে রোববার (০৫ ডিসেম্বর) সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হবে।

ভারত ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপকূলে সোজাসুজি না ওঠে কূল ঘেঁষে পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগুবে ঘূর্ণিঝড়টি। বাংলাদেশে যখন ঢুকবে তখন দুর্বল হয়ে কেবল বৃষ্টি ঝরাবে।

আবহাওয়াবিদ একেএম রুহুল কুদ্দস বলেন, জাওয়াদের প্রভাবে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এটি রোববার সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে দেশে ঢুকবে। কিছুটা ঝড়-বৃষ্টি হবে আগামী দুই-তিনদিন।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এ অবস্থায় সতর্ক সংকেত বেড়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘে ঢাকা। জাওয়াদ’র প্রভাবে রবি ও সোমবার উপকূলীয় এলাকা ছাড়াও ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-৮) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি শনিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে বলে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে এর পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্যও বলা হয়েছে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে।