🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনে

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ
❏ শনিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২১ ফিচার

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় অন্তত সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে।

শনিবার (০৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসন জাহাজ চলাচল বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান টেকনাফের ইউএনও পারভেজ চৌধুরী।

চলতি পর্যটন মৌসুমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে ৬টি পর্যটকবাহী চলাচল করছে। এসব জাহাজে প্রতিদিন অন্তত ৫ সহস্রাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন বেড়াতে যান।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিন্মচাপটি উত্তর-পশ্চিমে সরে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এতে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দর সমূহকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সবধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও পারভেজ বলেন, সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতির কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত আগামী সোমবার পর্যন্ত ওই নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

‘শনিবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলকারী ৬টি জাহাজে অন্তত ৫ সহস্রাধিক পর্যটন প্রবাল দ্বীপে বেড়াতে গেছে। জাহাজগুলো বিকালে টেকনাফ ফেরার আগে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতির ব্যাপারে পর্যটকদের অবহিত করা হয়েছিল। যদি পরিস্থিতি অবনতিশীল হয় তাহলে রোববার থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধের বিষয়টি পর্যটকদের অবগত করা হয়।’

ইউএনও বলেন, ‘এরপরও অনেক পর্যটক জাহাজে করে টেকনাফ না ফিরে সেন্টমার্টিনে অবস্থান করেন। সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিরূপ হওয়া প্রশাসন রোববার থেকে দুইদিনের জন্য আপাতত জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করে। এ নিয়ে শনিবারের আগেও অবস্থান করাসহ অন্তত সহস্রাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে।’

তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে আটকা পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পারভেজ চৌধুরী।

সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, রোববার থেকে প্রশাসন জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় সেন্টমার্টিনে অবস্থান করা অন্তত সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আকাশ কিছুটা মেঘলা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও দ্বীপের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আটকা পড়া পর্যটকরা স্ব স্ব হোটেল-মোটেলে নিরাপদে অবস্থান করছে।

তারপরও আটক পড়া পর্যটকদের যাতে কোনো ধরণের দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে না হয় ব্যাপারে হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

শনিবার আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্য 

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়ারা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে। আবহাওয়ার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্নিঝড়টি আরো উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। ফলে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন রয়েছে।

জাওয়াদ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটির নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঝড়টি দুপুর ১২টার পর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটার এবং পায়রা সুমদ্র বন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিন-দক্ষিন পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্যও বলা হয়েছে।

জাওয়াদের প্রভাবে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর উপকুলজুড়ে শনিবার সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। উত্তাল রয়েছে সমুদ্র। ফলে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন।