নিজ ঘর থেকেই অভিযান শুরু করুন, দুদককে রাষ্ট্রপতি

abduk hamid
❏ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- অন্যের দুর্নীতি চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আগে নিজেদের অনিয়ম ও অসততা দূর করতে হবে, তাই অভিযান নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের রেকর্ডকরা বক্তব্য বাজানো হয়।

দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

এ সময় দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মোজাম্মেল হক খান, কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক এবং প্রতিষ্ঠানটির সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, “দুর্নীতি উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। দেশ ও সমাজ থেকে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতি দূর করতে হবে। একজন দুর্নীতিবাজের পরিচয় শুধুই একজন দুর্নীতিবাজ। দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক, দুর্নীতি করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমি কমিশনের সকল পর্যায়ের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে তারা যেন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা প্রদর্শন করেন। অন্যের দুর্নীতি চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার পূর্বে নিজেদের অনিয়ম ও অসততা দূর করতে হবে।”

রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার যারা করবে, তাদের ‘কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, “দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হবে এবং দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না- জনমনে এমন ধারণা জন্মাতে পারলেই দুদকের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “আগামী দিনগুলোতে দুদককে দুর্নীতি দমনে আরো দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি আশা করব, আপনারা নিজেদের ঘর থেকেই এ অভিযান শুরু করবেন। কিছু সংখ্যক লোকের জন্য যাতে পুরো দুর্নীতি দমন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। একইসাথে দুর্নীতির মাধ্যমে কোনো অনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রলুব্ধ না করার জন্যও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুদকের কর্মীদের অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের সাথে সাথে দুর্নীতিবাজদের কৌশলও বদলেছে। তাই তাদের আইনের আওতায় আনতে হলে দুদককেও আরো কৌশলী হতে হবে, প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।”