🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ’র অভিযোগে তাহসান-মিথিলা-ফারিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

ইভ্যালিতে টাকা আত্মসাৎ
❏ শুক্রবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকাঃ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ইস্যুতে এবার জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান, অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা হয়েছে।

সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক মামলাটি করেছেন বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

গত ৪ ডিসেম্বর (শনিবার) ডিএমপির ধানমন্ডি থানায় মামলা হলেও বিষয়টি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিশ্চিত করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

প্রতারণা অভিযোগে করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজিব হাসান।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় মামলায় আসামি করা হয়েছে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আলোচিত ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল, তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, আকাশ, আরিফ, তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, শবনম ফারিয়া, তাহের ও মো. আবু তাইশ কায়েসকে।

তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব হাসান জানান, সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক গত ৪ ডিসেম্বর থানায় মামলা করেন। তার অভিযোগ, প্রতারণামূলকভাবে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ ও সহায়তা করা হয়েছে। আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা, যা তিনি এখনো উদ্ধার করতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এসআই রাজিব হাসান আরও বলেন, মামলায় ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেল গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলোইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তারকা তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়া ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি ও তাদের বিভিন্ন প্রমোশনাল কথাবার্তার কারণে আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেন সাদ স্যাম রহমান। এসব তারকাদের কারণে মামলার বাদী প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে গায়ক-অভিনেতা তাহসান খান শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত ছিলেন। আর রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ইভ্যালির ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইল শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন শবনম ফারিয়া।

তবে ইভ্যালির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে গত জুনে বড় অঙ্কের বেতনে ইভ্যালির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া শবনম ফারিয়ার বেতনের অধিকাংশ বকেয়া। অন্যদিকে ১০ মার্চ ইভ্যালির ‘ফেইস অব ইভ্যালি’ (শুভেচ্ছাদূত) ঘোষণা করা হয় তাহসানকে। তিনি শুভেচ্ছাদূত হওয়ার পরের মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও গ্রাহকের পণ্য সময়মতো পৌঁছে না দিতে পারায় তোপের মুখে পড়ে।

সবদিক বিবেচনা করে মে মাসের মাঝামাঝি সময় ইভ্যালি থেকে স্বেচ্ছায় সরে যান তাহসান। একই পথে হাটেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।

ইভ্যালির কয়েকজন গ্রাহক বলেন, ইভ্যালি নিয়ে জনপ্রিয় এই তিনজন তারকার প্রচার-প্রচারণার কারণে শুধু সাদ স্যাম রহমান নয় এমন শত শত মানুষ ইভ্যালি থেকে পণ্য কিনতে অর্ডার দিয়েছিলেন। কিন্তু পণ্য না পেয়ে গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এর দায় কোনোভাবে তারকারা এড়িয়ে যেতে পারেন না।

এদিকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে র‍্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা দল ও র‍্যাব-২ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাড়িতে অভিযান চালায়। প্রায় দুই ঘন্টার অভিযান শেষে গুলশান থানায় একজন ভুক্তভোগীর মামলা গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাসেল ও তার স্ত্রীকে র্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখানেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ 

গণমাধ্যমের উপর চটেছেন তাহসান, জানালেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া!