• আজ মঙ্গলবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

গণমাধ্যমের উপর চটেছেন তাহসান, জানালেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া!

তাহসান
❏ শুক্রবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: ইভ্যালি কান্ডে তাহসান-মিথিলা-ফারিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থআত্মসাতের অভিযোগে মামলার পর মামলা নিয়ে নিজের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান।

তার বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবাদে তিনি নিজেও মানহানি মামলা করবেন জানিয়েছেন তাহসান। শুক্রবার দিনব্যাপি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের শিরোনাম ‘যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন তাহসান, মিথিলা, ফারিয়া …’ ইত্যাদি শিরোনাম নিয়েও বেশ চটেছেন তাহসান।

বর্তমানে যুক্তরাস্ট্রে অবস্থানরত তাহসান জানিয়েছেন, ‘গত ৭ মাস ধরে মানসিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আর কিছু পত্রিকার চটকদার শিরোনাম দেখে অবাক হয়েছি। মামলা হয়েছে ৪ ডিসেম্বর। বৃহস্পতিবার রাতে এই তথ্য প্রকাশ হলো কেন? এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না জানি না।’

বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকের সাথে আলাপকালে তাহসান জানান, ‘যে কোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার বা নজরদারিতে বলতে কী বোঝায়? হ্যাঁ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় তাদের তো একটা নজরে রাখতেই হয়। তাই বলে যে কোনো চটকদার মুখরোচক শিরোনাম করে কাটতি বাড়ানোর কোনো অর্থ হয় না। যা হবে আইনগতভাবে হবে। একটা মামলা হয়েছে সেটার তদন্ত চলছে। তদন্ত করে যদি আমাদের দোষ না পাওয়া যায় তাহলে আমাদের তো কোনো সমস্যা হবে না। আর তদন্ত করে পেলে তখন যেটা আইনত হবে তাই হবে।’

এর আগে তাহসানদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগে সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক একটি মামলা করেছেন বলে থানা সূত্রে জানা যায় ।

গত ৪ ডিসেম্বর (শনিবার) ডিএমপির ধানমন্ডি থানায় মামলা হলেও বিষয়টি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই মামলা সম্পর্কে গনমাধ্যমকে নিশ্চিত করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

প্রতারণা অভিযোগে করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজিব হাসান।

তাহসান জানান, সারাবিশ্বে লাখ লাখ প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর রয়েছে, তাদের ওপর প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের দায়ভার আসে না জানিয়ে তাহসান বলেন, ‘প্রচারক কখনো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক দায়ভার নেবেন না। সারাবিশ্বে লাখ লাখ প্রতিষ্ঠানের লাখ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর রয়েছে। তারা তো ওইসব কোম্পানির সমস্ত দায়ভার নিয়ে বসে নেই। কোম্পানির যখন সমস্যা দেখা যাবে তখন সরে আসবে। প্রচারণার দায়িত্ব পালন করা কোনোভাবেই অপরাধী হতে পারে না।’

তাহসান জানান, আমি যে বছর জানুয়ারিতে ই-ভ্যালির সাথে চুক্তিবদ্ধ হই তার আগের বছর জানুয়ারিতে আমাকে অ্যাপ্রোচ করা হয়। আমি যখন ডিনাই করছিলাম তখন তারা আমাকে বললো, ‘আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আছি। আমরা র‍্যাবের চলচ্চিত্র অপারেশন সুন্দরবনের সঙ্গে আছি। আমরা আইসিটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি… তাহলে কেন ডিনাই করছেন?

ইভ্যালি নিজেদের দলে ভেড়াতে এমনই বিশ্বস্ত কিছু সূত্র ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তাহসান।

ইভ্যালির সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তাহসান বলেন, ‘আমি শেষ পর্যন্ত চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু সেই চুক্তি অনুযায়ী কাজ করিনি। তার আগেই মে মাসে আমি চুক্তি টার্মিনেট করি। চুক্তি অনুযায়ী আমার বিজ্ঞাপন করার কথা ছিল। কিন্তু আমি বিজ্ঞাপন করিনি। এর আগে দুটো লাইভ করে অনেক কমপ্লেইন পেয়েছি, আমার কাছের মানুষেরা কমপ্লেইন করেছে। যার ফলে আর অগ্রসর হইনি। চুক্তি বাতিল করেছি।’

এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়া ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এবং তাদের বিভিন্ন প্রমোশনাল কথাবার্তার কারণে আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেন সাদ স্যাম রহমান। এসব তারকার কারণে মামলার বাদী প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আগের সংবাদ

গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ’র অভিযোগে তাহসান-মিথিলা-ফারিয়ার বিরুদ্ধে মামলা