• আজ সোমবার, ১০ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

অসুস্থ্য বাবার সামনে সন্তানকে নিজের গালে জুতা মারতে বাধ্য করেন ছাত্রলীগ নেতা!

নিজের গালে জুতা মারতে
❏ শুক্রবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর: মৃত্যুপথযাত্রী বাবার সামনে পায়ের জুতা খুলে দিয়ে অসহায় এক সন্তানকে নিজের গালে আঘাত করতে বাধ্য করার অমানবিক এক ঘটনার স্বাক্ষি হয়েছিলো ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

সেই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে যাবার ঘটনায় ফেঁসে গেলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশ। এ ঘটনায় দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে পদ হারাতে হচ্ছে তাকে।

শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ।

ঘটনার সময়, ৭ ডিসেম্বর, রাত অনুমান ১২টা। স্থান, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

যাদবপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিনের ছেলে হোসাইন সরকার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। এক ছেলে এক মেয়ের জনক হোসাইন সাবেক সাংসদ নবী নেওয়াজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

গত সংসদ নির্বাচনে নবী নেওয়াজ দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন, নিজ নেতা এমপি নির্বাচিত না হওয়ায় দলীয় রাজনীতিতে থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে মেট্রোরেলের একটি প্রজেক্টে চাকরি নেন হোসাইন। বাবা গিয়াস উদ্দিন সরকার অসুস্থ হবার কারনে সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি।

ঘটনার রাতে হাসপাতালে পিতা গিয়াস সরকারের বেডের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন হোসাইন। পরে সেখানে আসেন মহেশপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশসহ কয়েকজন। বাবার মৃত্যুশয্যার পাশে অসহায় হোসাইনকে সহজেই বাগে পেয়ে যান তারা।

এরপর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশ নিজের পা থেকে জুতা খুলে হোসাইনকে নিজের গালে আঘাত করার নিদের্শ দেন মৃত্যুপথযাত্রী বাবার সামনেই। হোসাইন
ঘটনা সামলাতে পা ধরে মাফও চায় ছাত্রলীগের এই নেতার কাছে। তবুও টলেনি নির্দেশদাতার হৃদয়! নিরুপায় হয়ে নিজের গালে নিজে জুতা মেরে ক্ষমা চান হোসাইন।

ঘটনার সময় হোসাইনের অসহায় মা’কেও কাকুতি মিনতি করতে দেখা যায়, নির্বাক বাবা সন্তানের এই পরিস্থিতি দেখে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার্ড করা হয়। এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ভিডিও প্রকাশের পর মহেশপুরের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতারাও প্রতিবাদ জানান সোশ্যাল মিডিয়ায়।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, যখন ঘটনাটি ঘটে তখন হোসাইনের বাবা গিয়াস উদ্দিন সরকার মৃত্যুশয্যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। এ ঘটনার পর শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে যশোর হাসপাতালে মৃত্যু হয় হোসাইনের বাবার।

এর আগে ৬ ডিসেম্বর বিকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে ৮ ডিসেম্বর মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তার লাশ।

হোসাইনের ভগ্নীপতি মোমিন জানান , ফেসবুকে লেখালেখির সূত্র ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বিপাশের সঙ্গে বেশকিছুদিন ধরে সাবেক এমপি নবীনেওয়াজের সর্মথক ও ছাত্রলীগ নেতা হোসাইনের বিরোধ চলে আসছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে পা ধরে মাফ চাচ্ছেন হোসাইন নামের ওই কর্মী। কথোপকথনের একপর্যায়ে পা থেকে জুতা খুলে দেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি। হোসাইনকে নিজের গালে সেই জুতা দিয়ে আঘাত করার নিদের্শ দেন । নির্দেশ পালনে কয়েকবার নিজের গালে আঘাত করেন হোসাইন।

মোমিন আরও জানান, মৃত্যুপথযাত্রী বাবার চোখের সামনেই ঘটনাটি ঘটে যায়। সেখানে মা ফাতেমা খাতুন বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছুই করার ছিল না তার। ছেলেকে জুতাপেটা করতে দেখে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা। এরপর মাত্র কয়েকঘন্টা পরেই মৃত্যু হয় হোসাইনের বাবার।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

এ  সম্পর্কে জানতে, অভিযুক্ত বিপাশকে  কয়েকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি।