• আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

মানবাধিকারের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ চলছে মিয়ানমারে : জাতিসংঘের উদ্বেগ

মিয়ানমারে
❏ শনিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ফিচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- “মিয়ানমারে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়ে গেছে, সেখান সেনাবাহিনী মানুষজনকে নির্মমভাবে হত্যা করছে এবং দেহ পুড়িয়ে দিচ্ছে” বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়।

মিয়ানমারের সাগাইং গ্রামে দু’দিন আগেই ১১ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় অধিবাসীদের বক্তব্য এবং গণমাধ্যমের খবরে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সেনাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে উল্লেখ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় জানায়, সেনারা ওই ১১ জনকে বেঁধে গুলি করেছে এবং দেহে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পুড়ে যাওয়ার সময় তাদের কেউ কেউ জীবীতও ছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল্লে শুক্রবার জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “মিয়ানমারে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমরা স্তম্ভিত।”

“কেবল গত এক সপ্তাহেই নিরাপত্তা বাহিনী ১১ জনকে হত্যা করেছে এবং ‍পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন শিশুও আছে। বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে গাড়ি ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘন করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ওদিকে, সাগাইং ও এর আশেপাশের গ্রামগুলোর স্বেচ্ছাসেবী এক ত্রাণকর্মী প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলেছেন, “সেনারা যাকেই পাচ্ছে তাকেই নির্মমভাবে হত্যা করছে। যাদেরকে মারা হচ্ছে তারা মিলিশিয়া সদস্য নাকি সাধারন মানুষ তা বোঝা যাচ্ছে না।”

মিয়ানমারে গত ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভ-আন্দোলনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে সেখানে গড়ে উঠেছে মিলিশিয়া বাহিনী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)।

ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের খবরে জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।

তিনি এ ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সাধারন মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে মিয়ানমারের জান্তা কর্তৃপক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি ।

নৃশংস এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন দুজারিক।

এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিভাগের ‍মুখপাত্রও মিয়ানমারের সেনা কতৃক শিশুসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।