• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

ময়মনসিংহে মুরাদ-নাহিদের নামে মামলার আবেদন

murad 243
❏ সোমবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২১ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টার- সদ্য পদত্যাগ তরা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও ইউটিউবার মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান সম্পর্কে ফেসবুক লাইভে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল বক্তব্যের অভিযোগ করে এই মামলার আবেদন করা হয়।

ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই মামলার আবেদন করেন।

বিষয়টি সময়ের কন্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল হক।

তিনি বলেন, সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাঃ বজলুর রহমান মামলার আবেদন গ্রহণ করে আদেশের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের জন্য রেখে দিয়েছেন।

অ্যাডভোকেট মো. নুরুল হক বলেন, ডা. মুরাদ হাসান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান সহ বিভিন্ন নারীদেরকে নিয়ে অশালীন কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও তিনি দেশের সকল নারী জাতিকে অসম্মান করেছেন। সরকার তাকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরিয়ে ফেললেই তার বিচার হয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে তার এই ঘৃণ্যতম অপরাধের শাস্তির দাবিতে এই মামলার আবেদন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, আদালত এই মামলা আমলে নিয়ে অপরাধীকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসবেন।

অ্যাডভোকেট মো. নুরুল হক আরও বলেন, নাহিদ রেইনস নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ডা. মুরাদ হাসানের অশালীন বক্তব্য প্রচার করায় তাকেও এই মামলার আসামি করা হয়েছে। নাহিদ রেইনস হলো মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি।

গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতা-কর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। সেখানে বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করার সময় দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।

নারীর প্রতি এমন ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ছিলেন মুরাদ। এর মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে এক চিত্রনায়িকাকে ধর্ষণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

এসবের জেরে ৬ ডিসেম্বর রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুরাদকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেন।

ওই দিনই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। রাতেই তা গেজেট আকারেও প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে নেয়ার পাশাপাশি ‘মা-বোনদের’ কাছে ক্ষমা চান মুরাদ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে মুরাদ লেখেন, ‘আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা দেশরত্ন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সব সিদ্ধান্ত মেনে নেব আজীবন।’

এরপর গত ১০ ডিসেম্বর এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন, কিন্তু কানাডার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে সে দেশে ঢুকতে দেয়নি। সেখান থেকে চলে যান সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানেও থাকতে পারেননি ভিসা না থাকায়।

কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে রোববার দেশে ফিরে আসতে হয় মুরাদকে।