স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল, বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ

news n234n
❏ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- মহান বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন লাখো মানুষ। ফুলে ফুলে ঢেকে গেছে স্মৃতিসৌধের মূল বেদি। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নেমেছে জনতার ঢল। বিজয়ের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে স্মৃতিসৌধকে ঘিরে গোটা সাভার যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

সকাল ৬টা ২৮ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় মিনিট খানেক নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী; বেজে ওঠে বিউগলের করুণ সুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অফ অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল।

এরপর জাতির সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিন বাহিনীর প্রধান।

পরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় তার পাশে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাছান মাহমুদসহ আরও অনেকে।

তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বরিশালের আব্দুল আওয়াল স্ত্রী, নাতি ও নাতনিকে নিয়ে এসেছেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। এ দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই তার এ প্রয়াস।

আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘নাতি ও নাতনিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনিয়েছি। মূলত তাদের আগ্রহের কারণেই এখানে আসা। এখানে এসে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চোখের সামনে দেখবে। এ দেশের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছে, তাদের মহান চিন্তাধারা যেন তাদের মধ্যেও সম্প্রসারিত হয় এটাই আমার চাওয়া।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ আল জুবায়ের বন্ধুদের সঙ্গে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘প্রতি বছরই এ দিনটিতে এখানে আসি। যারা আমাদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন, তাদের আদর্শে যাতে নিজেকে গড়ে তুলতে পারি এটাই কামনা।’

৫০ বছরের বাংলাদেশের কাছে কী প্রত্যাশা, জানতে চাইলে সাভারের বাসিন্দা ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ‘৫০ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অনেক দূর এগিয়েছে, কিন্তু এখনও দেশ থেকে বৈষম্য আর দুর্নীতি দূর হয়নি। আমার এটাই কামনা, এ দেশে প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে।’

বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন আজ ১৬ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। সেই সঙ্গে পালন করা হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। কারণ বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি হলো আজ বৃহস্পতিবার।

১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) নতমস্তকে আত্মসমপর্ণ করেছিল হানাদার বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাঙালি।

বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সড়কদ্বীপ ও মোড় আলোকসজ্জিত করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।