• আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে শিক্ষার্থী নিখোঁজ

newsn24m2
❏ শনিবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০২১ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর) প্রতিনিধি: ‘আব্বু আম্মু ক্ষমা করে দিও আজ বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল, আপু মুশাব্বিরের প্রতি খেয়াল রাখই’ ফেসবুকে এ স্ট্যাটাস দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ।

শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের মেলান্দহে নিজ বাড়িতে ফেরার কথা ছিলো।

নিখোঁজ শিব্বির আহমেদের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে বানিয়াবাড়ী এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আব্দুল্লাহ আল-ফারুকের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিব্বির আহমেদ ময়মনসিংহ শহরের মীরবাড়ী, কলেজ রোড়, এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। সে আনন্দ মোহন কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার সকালে ফোন দিয়ে বাড়িতে আসার কথা জানানো হয়।

এর আগে শিব্বির আহমেদ ভোর সকালে তার ফেসবুক থেকে কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন, স্ট্যাটাসে বলা হয়,”ভালো থাকবে জায়গা, সুখে থাকবে শহর”, “ঘর ,পরিবার, জায়গা ক্ষমা করে দিও”।

এর পরে সকালে ৭দিকে আবার ফোন দিয়ে তার পরিবারকে জানানো হয়, ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনে বাড়ি আসতেছেন।‌ ফোন দেবার কিছু আগে সর্বশেষ ফেসবুকে আরো একটি একটি স্ট্যাটাস দেন, “আব্বু আম্মু ক্ষমা করে দিও আজ বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল, আপু মুশাব্বিরের প্রতি খেয়াল রাখই”।

এ স্ট্যাটাস দেখে আবার ফোন দিলে, তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার মেস ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিলে তাকে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ শিব্বিরের খালাতো ভাই মুত্তাছিম বিল্লাহ বলেন, আমাদের ধারণা মেস থেকে বৃহস্পতিবার রাতেই বের হয়েছেন। শুক্রবার সকালে তার ফেসবুক কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন, তারপর থেকে আমরা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি, সর্বশেষ ফোনে জানানো হয়ে বাড়িতে আসতেছেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে আমরা তাকে কোথাও খুঁজে পাইনি। তিনি আত্মহত্যা করার মতো ছেলে না, হঠাৎ এ ধরণের স্ট্যাটাস দিয়ে কি জন্য নিখোঁজ হলো আমারা ধারণা করতে পারছিনা।

শিব্বির আহমেদ বাবা আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, “আমার ছেলে খুব সহজ সরল, তিনি কখনোই আত্মহত্যা করতে পারে না। তার কোন টাকা পয়সার সমস্যাও ছিল না। হঠাৎ কী জন্য এ ধরণের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিখোঁজ হলো কিছুই বুঝতে পারছিনা। গতকাল শুক্রবার রাতে কোতোয়ালী থানায় জিড়ি করছি। এখনো কোন খোঁজ খবর পাইনি, কোথায় আছে বা কেমন আছে।