• আজ সোমবার, ৩ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি: ফখরুলকে কৃষিমন্ত্রী

razzak
❏ রবিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০২১ জাতীয়

তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- ‘সরকার বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তাজউদ্দীন আহমদের নাম উচ্চারণ করেনি’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’।

তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর। এই ৫০ বছরে বিএনপির কোন নেতাকর্মী এক সেকেন্ডের জন্য-একবারের জন্যও কি তাজউদ্দীন আহমদের নাম, জেনারেল এমএজি ওসমানীর নাম উচ্চারণ করেছে? করেনি। আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী যে কোন অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে- শ্রদ্ধা জানায়, তারপর জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করে অনুষ্ঠান ও বক্তব্য শুরু করে। আওয়ামী লীগ সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি- মুক্তিযুদ্ধের নেতৃবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে।

রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আওয়ামী লীগ কখনও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে, ভুলুণ্ঠিত করেছে এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ধারায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছে। তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির কথা শোভা পায় না।

মন্ত্রী বলেন, শুধু বিএনপি, জামায়াত, রাজাকার ও আলবদর নয়, আন্তর্জাতিক চক্র যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে নাই, বার বার এদেশে বিপর্যয় ঘটাতে চেয়েছে, তারাও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে সারাক্ষণ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসব দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের উদাহরণ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের গরিব, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ খাওয়ার জন্য যাতে কোন কষ্ট না পায়, সেজন্য এক কোটি পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে ওএমএস, টিআর, কাবিখার মাধ্যমে চাল দেওয়া হচ্ছে। দেশে খাদ্য নিয়ে কোন হাহাকার নেই, কোন মানুষ না খেয়ে নেই। এমনকি মঙ্গাপীড়িত, দুর্গম চর এলাকা, উপকূল এলাকা, দারিদ্র্যপীড়িত পাহাড়িসহ প্রতিকূল এলাকায়ও মানুষের খাদ্যের কষ্ট নেই।

পরে কৃষিমন্ত্রী সখীপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দলকে আরও সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করতে হবে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে, দলকে তারা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেজন্য বঙ্গবন্ধু ও দলের আদর্শের প্রতি নেতাকর্মীর আনুগত্য, রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং অতীত কর্মকান্ড ভালভাবে যাচাই-বাছাই করে নতুন কমিটিতে স্থান দিতে হবে।

সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছার, পরিবেশ ও বন উপ-কমিটির সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ, সখীপুর পৌরসভার মেয়র আবু হানিফ আজাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার।