🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

শিশু হত্যাচেস্টার দায়ে জেল খেটে বেরিয়েই আরেক শিশুকে কুপিয়ে হত্যা!

শিশুকে কুপিয়ে হত্যা
❏ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: বছর তিনেক আগে সুনামগঞ্জে এক শিশুকে আকস্মিক কুপিয়ে চোখ নষ্ট করার অভিযোগে জেলহাজতে ছিলো যুবক। সাম্প্রতিক সময়ে জেল খেটে বেরিয়েই এবার আরেক শিশুকে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করেছে তৌহিদ হোসেন (২৬) নামের এক যুবক।

এ ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকাজুড়েই।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর)  সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের পল্লীতে ৬ বছরের শিশু মাহবুব আলম রিহানকে দা দিয়ে কুপিয়ে খুন করার ঘটনা ঘটে ।

শিশু মাহবুব আলম জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের হানিফ উল্লার ছেলে। ঘাতক তৌহিদ হোসেন তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে। এলাকাবাসী ঘাতককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে তৌহিদ তাহিরপুর উপজেলার এক শিশুকে দা দিয়ে কুপিয়েছিল। ওই শিশুটি বেঁচে ফিরলেও তার এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় জেল খেটে সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছে সে।

ঘটনার আগে গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে ঘাতক যুবক।
এরপর, সোমবার সকালে জামালগঞ্জের লক্ষীপুর গ্রামে হাতে দা নিয়ে এলোপাতাড়ি ঘুরছিল সে। শিশু মাহবুব আলম বাড়ির পাশে মাঠে শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিল। এসময় আচমকা হাতে থাকা দা দিয়ে মাহবুবের গলায় আঘাত করে তৌহিদ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় ঘাতক অন্য শিশুদের উপরেও আক্রমণ করতে উদ্যত হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খুনিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

খুনের কারণ হিসেবে আটক তৌহিদ জানিয়েছে, প্রায়ই সে স্বপ্নে দেখে তাকে কে বা কারা দা দিয়ে তাড়া করে বেড়ায়। তাই আক্রমণ প্রতিহত করতে কিনে আনা দাটি নিজের বালিশের নিচে রেখে ঘুমাতে যায়। সোমবার সকালেও একই স্বপ্ন দেখে তার ঘুম ভাঙ্গে। ঘুম থেকে জেগে তার সামনে শিশু রিহানকে আসতে দেখে অতর্কিত হামলা করে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতক তৌহিদ।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আবদুন নাসের জানান, তৌহিদ মিয়া একেক সময় একেক কথা বলছেন, তাঁকে আটক করা হয়েছে। শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।