• আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

ঋণের টাকা দিতে না পেয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন শিব্বির আহমেদ!

sibbir n24
❏ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ।

গত রোববার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে দিনাজপুর জেলা শহরের একটি মেস থেকে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ থানা-পুলিশ। পরে মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোতোয়ালী থানা পুলিশ শিব্বিরকে তার পরিবার হাতে বুঝিয়ে দেন।

শিব্বিরের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিব্বির আহমেদ আনন্দমোহন কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, তিনি ময়মনসিংহ শহরের কলেজ রোডের মীরবাড়ী এলাকায় দুই বছর যাবত একটি মেসে থাকতেন। শিব্বিরে পড়াশোনার জন্য তার পরিবার থেকে নিয়মিত তাকে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতেন।

পরিবারকে না জানিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় তিন লাখ ঋণ করেছিলেন শিব্বির। নিখোঁজ হওয়ার আগেই তার ময়মনসিংহ মেস থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে রাখেন। নিখোঁজ হওয়ার একদিন আগে থেকেই ফেসবুকে নানান ধরণের স্ট্যাটাস দিতে থাকেন।

সবশেষে শিব্বির বাড়িতে ফোন দিয়ে বলেন কমিউটার ট্রেনে বাড়িতে ফিরছেন। ফোন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোবাইল ফোন বন্ধ করেন। তিনি বাড়িতে না ফিরে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে চলে যান। দিনাজপুর জেলা শহরের একটি মেসে দুই দিন থাকেন। পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে দিনাজপুর থেকে তাকে পাওয়া যায়।

শিব্বির আহমেদের খালাতো ভাই মুত্তাছিম বিল্লাহ বলেন, শিব্বির আহমেদ ময়মনসিংহ শহর থেকে রাত ৮টার দিকে দিনাজপুর যাওয়ার বাসে উঠে দিনাজপুরে চলে যান। ভোর সকালে দিনাজপুর পৌঁছালে একটি আবাসিক হোটেলে ৫ ঘন্টা ঘুমান। পরে শহরের একটি মেসে উঠেন। গোপনে সে কিছু টাকা ঋণ করেন। আমাদেরকে বলে নাই যে টাকা ঋণ করেছে বা পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেয়েছি, শিব্বিরের গার্লফ্রেন্ড চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন। টাকা ঋণ করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। গার্লফ্রেন্ড চলে যাওয়ার পর সেই মানসিক আঘাত পেয়ে এ কর্মকাণ্ড করেছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য আপাতত বাড়িতেই রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আব্বু আম্মু ক্ষমা করে দিও, আজকে বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল…. আপু মুশাব্বিরের প্রতি খেয়াল রাইখ।’ ফেসবুকে এ স্ট্যাটাস দিয়ে নিখোঁজ হন শিব্বির আহমেদ।

১৭ ডিসেম্বর সকালে ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের মেলান্দহে নিজ বাড়িতে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন পরিবারকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে না পৌঁছানোয় ওই দিনই ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে শিব্বিরের পরিবার।

শিব্বির আহমেদের বাড়ি, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে বানিয়াবাড়ী এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আব্দুল্লাহ আল-ফারুকের ছেলে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘নিখোঁজের পর থেকেই আমরা তাঁকে বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরবর্তীতে শিব্বিরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই দিনাজপুরে তাঁর সন্ধান মেলে। গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শিব্বিরকে তার পরিবার হাতে বুঝিয়ে দিয়েছি‌।’