• আজ বুধবার, ১২ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

এমভি অভিযান লঞ্চে ভয়াবহ আগুনের সুত্রপাত যেভাবে

ভয়াবহ আগুনের
❏ শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

ঢাকা: বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠির সদর উপজেলার ৮নং গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাবখান চ্যানেলে সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-২ নামে যাত্রীবাহী লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনার দিকে যাচ্ছিল।

সুগন্ধা নদীর দিয়াকুল নামক স্থানে রাত ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিনরুমে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। এরপর সেই আগুন পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। যাত্রীরা অনেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। এসময় প্রাণ বাঁচাতে সাহায্যপ্রার্থী যাত্রীদের আর্তচিতকারে ভারী হয়ে উঠে পুরো এলাকার আকাশ বাতাস।

স্থানীয়দের মাধ্যমে আহতদেরকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, রাত ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিনরুমে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এ সময় অনেক যাত্রী দগ্ধ হন। প্রাণ বাঁচাতে বেশ কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন।পরে লঞ্চটি তীরবর্তী দিয়াকুল গ্রামে ভেড়ানো হয়।

লঞ্চটিতে থাকা এক যাত্রী বলেন, গভীর রাত হওয়ায় অনেকে ঘুমিয়ে পড়েন। আমি বসে মোবাইল দেখছিলাম। রাত তিনটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। একটু পর লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের কাছে ভয়াবহ আগুন দেখতে পাই। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মনে হলো মুহূর্তের মধ্যে কোনও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে এসেছে। কী করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। উপায় না পেয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ি।

যাত্রীরা জানান, অনেকে নদীতে লাফ দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও সাঁতার না জানায় অনেকে ডুবে মরেন। এ পর্যন্ত যতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন ডুবে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

একজন যাত্রী জানান, যখন মাঝরাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তখন একদিকে আগুন আর অন্যদিকে পানি – এ ছাড়া আর তো কোনো উপায় ছিলো না। বেঁচে যাওয়া আরেকজন যাত্রী জানান,  ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই ইঞ্জিনের দিক থেকে মাঝে মধ্যেই জোরে শব্দ হচ্ছিলো আর প্রচণ্ড কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিলো।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান তাৎক্ষনিক ভাবে জানান, লঞ্চে পাঁচ শতাধিক যাত্রী থাকলেও আগুনে ৭০-৮০ জন দগ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টা পর্যন্ত ৩৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের মোট ৫টি ইউনিট আগুন নেভানোসহ উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।

কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লঞ্চটির ইঞ্জিন কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত।

এদিকে, লঞ্চে আগুন পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক অবস্থা জানতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঝালকাঠীর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। তিনি দুপুরের মধ্যে সেখানে পৌঁছাবেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান এ তথ্য জানিয়েছেন। লঞ্চে আগুনে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুখ প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

আগের সংবাদ 

৩৮ জনের লাশ উদ্ধার; ঝালকাঠীর উদ্দেশ্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী