• আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্টকে ক্ষমার ঘটনায় চাঞ্চল্য দক্ষিণ কোরিয়ায়!

দক্ষিণ কোরিয়ায়
❏ শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ আন্তর্জাতিক

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: স্বাস্থ্যগত কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাইকে ক্ষমার বিষয়টি ইতোপূর্বে প্রত্যাখ্যান করলেও এদফায় পার্ক জিউনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন।

পার্ক জিউন-হাইকে ক্ষমার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের এই সিদ্ধান্ত বেশ বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

এর আগে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতা হারানোর পর আদালতের রায়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড হয় তার। আদালতের সেই রায়ের পর থেকেই কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ২০১৭ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন সাবেক ওই দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট।

বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৭ সালে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পার্ক জিউন-হাইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বলপ্রয়োগসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়। সেসব অভিযোগেই ৬৯ বছর বয়সী পার্ক জিউনের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

এছাড়া সেসময় তাকে ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন পার্ক।

বিবিসি বলছে, বন্দি থাকা অবস্থায় চলতি বছর তিন বার পার্ক জিউন-হাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কাঁধ এবং পিঠের নিচের অংশে তীব্র ব্যথার কারণেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়নহাপ জানিয়েছে, নববর্ষ উপলক্ষে বন্দিদের বিশেষ ক্ষমা ঘোষণা করবেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। বিশেষ ক্ষমার এই তালিকায় পার্ক জিউন-হাইয়ের নামও রয়েছে। মূলত সাবেক এই প্রেসিডেন্টের শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করেই তাকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন পার্ক জিউন-হাই।

ব্যক্তিগত লাভের জন্য বন্ধুকে সুবিধা পাইয়ে দিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহারের অভিযোগে ২০১৬ সালে পার্লামেন্ট ও রাজপথে পার্কের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে পার্ক অভিশংসিত হন। ২০১৭ সালে দেশটির সাংবিধানিক আদালত তাকে ক্ষমতাচ্যুতের রায় দেন। পরের বছর দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক প্রভাব খাটানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাকে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

৬৯ বছর বয়সী পার্ক দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট যাকে জোর করে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছিল। দেশটির সাবেক সেনাশাসক পার্ক চুং-হির মেয়ে পার্ক জিউন-হাই ২০১৩ সালে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। পার্কের ওই অভিশংসনের মধ্য দিয়ে মুন জায়ে-ইনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করে দেয়।

পার্ক জিউন-হাইকে অভিসংসনের ওই রায়ে বিচারক বলেছিলেন, পুরনো বান্ধবী চই সুন-সিলের সঙ্গে যোগসাজশে স্যামসাং ও লোটের মতো কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দিয়ে ৭৭.৪ বিলিয়ন উয়ন নিয়েছেন পার্ক।