‘লঞ্চে ত্রুটি ছিলোনা’ দাবী মালিকের; গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনা দাবী নৌপুলিশের

লঞ্চ দুর্ঘটনা
❏ শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: ‘লঞ্চে কোন ত্রুটি ছিলোনা’ , মাত্র ২ মাস আগেই নতুন জাপানি ইঞ্জিন সংযোজন করেছেন বলে দাবী করেছেন, এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হাম জালাল শেখ।

অন্যদিকে,চালক বা ইঞ্জিনের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের গাফিলতির কারণেই  এ দুর্ঘটনা ঘটেছে,  এমন দাবী নৌপুলিশের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হাম জালাল শেখ বলেন, ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার আনোয়ার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আমাকে ফোন করে অগ্নিকান্ডের খবর দিয়ে বলেন, প্রথমে দোতলায় একটা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়, সঙ্গে সঙ্গে কেবিনে আর লঞ্চের পেছনের বিভিন্ন অংশে আগুন লাগে। তারপর তৃতীয় তলার কেবিন ও নিচতলায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন। কিছু যাত্রীসহ পানিতে নেমে যায়। লঞ্চ ভেসে ওপারে যাওয়ার পর কিছু যাত্রী নেমে যায়।

হাম জালাল শেখ দাবী করে বলেন, ওই লঞ্চে অন্তত ২১টি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ছিল, কিন্তু এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে যে সেসব ব্যবহারের সময় পাওয়া পায়নি। এছাড়াও লঞ্চে কোনো যান্ত্রিক ক্রুটি ছিল না, বলেও দাবী করেন তিনি।

মাত্র ২ মাস হলো জাপানি নতুন ইঞ্জিন সংযোজন করেছি উল্লেখ করে হাম জালাল শেখ বলেন, কোন ত্রুটি থাকলে লঞ্চ নামাতে পারতাম না।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে নৌপুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বরিশাল জোন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, ঝালকাঠির নলছিটি এলাকা অতিক্রমকালে রাত সাড়ে তিনটার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিনে আগুন লাগে। এরপর নলছিটি ও ঝালকাঠিতে স্টপেজ না দিয়ে লঞ্চটি প্রায় ১ ঘণ্টা যাবত চলতে থাকে।

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে ইঞ্জিনের আগুন সম্ভবত তেলের ট্যাঙ্কিতে লাগে এবং বিকট শব্দে লঞ্চটি ঘটনাস্থলে এসে থেমে যায়। চালক বা ইঞ্জিনের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের গাফিলতির কারণেই যে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা এ মুহূর্তে নিশ্চিত। বিস্তারিত তদন্তের পর বলতে পারব।’

নৌপুলিশ এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত বা যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

নৌপুলিশের সিনিয়র এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লঞ্চের ভেতর ঘুমন্ত যাত্রী যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ। ১৫০ থেকে ২০০ জন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’

উল্লেখ্য, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক একটি লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে । বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সুত্রের বরাতে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জ‌নের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।

অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের ব‌রিশাল শে‌রে বাংলা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভ‌র্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন 

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫; লঞ্চ ছাড়ার মুহুর্তেও প্রচন্ড গরম ছিলো দোতলার ডেক!

৩৮ জনের লাশ উদ্ধার; ঝালকাঠীর উদ্দেশ্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

এমভি অভিযান লঞ্চে ভয়াবহ আগুনের সুত্রপাত যেভাবে