• আজ শুক্রবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

বিস্মিত প্রার্থীর প্রশ্ন, ‘আমার নিজের ভোটটি গেল কই?

ভোট
❏ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২১ দেশের খবর, রাজশাহী

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা:  ভোট গ্রহণ শেষে গননার পর যদি কোন প্রার্থী দেখেন তার ভোট একেবারেই শুন্য! তখন অবাক হয়ে শিরোনামের এমন প্রশ্নই থাকার কথা যেকোন নির্বাচনী প্রার্থীর কণ্ঠে।

প্রশ্ন উঠে, তাহলে কি নিজের ভোটটাও তিনি দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে? এমন কি হয় কখনো? বিস্মিত প্রার্থী চিৎকার করে বলতে থাকেন তার স্পষ্ট মনে আছে তিনি নিজে ভোট দিয়েছেন তার প্রতীক মোরগ মার্কায়। এমনকি এক ছেলে মোরগ প্রতীকে ভোট দেবার সময় মোবাইল ফোনে ছবি তুলেছিলেন, সেই ভোটটাই বা গেল কোথায় ?

ঘটনার স্থান, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের বেলঘরিয়া। গতকাল ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণার আগ মুহুর্তে বিস্মিত কণ্ঠে প্রার্থী আবু তালেব বলছিলেন, ‘আমার নিজের ভোটটি গেল কই? তারা আমার ভোটটিও চুরি করেছে।’

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) ইউসুফপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর বেলঘরিয়া ওয়ার্ডের বেলঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের বেলঘরিয়ার মেম্বার প্রার্থী ছিলেন আবু তালেব। ভোট শেষে ফলাফলে জানানো হয়, তিনি পেয়েছেন শূন্য ভোট। মেম্বার পদপ্রার্থী আবু তালেবের দাবি, তার সব ভোটের সঙ্গে নিজের দেওয়া ভোটটিও চুরি করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

আবু তালেব বেলঘরিয়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এর আগেও মেম্বার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এবারও তিনি মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিংকু আহমেদ। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়ে এক হাজার ১১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

ভোট গণনা শেষে ফলাফলে জানানো হয়, আবু তালেব শূন্য ভোট পেয়েছেন। ফলাফলের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীর সর্মথকরা আন্দোলন শুরু করেন। তারা প্রশাসনসহ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেন।

ঘটনাস্থলে আক্ষেপে চিৎকার করে  আবু তালেব  মোবাইলে ভোট প্রদানের একটি ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘এই যে ছেলেটা মোরগ প্রতীকে ভোট দিয়েছে, মোবাইলে ছবিও তুলেছে। তার ভোটটা কোথায় গেলো? আমার ভোট কোথায় গেলো? যে ব্যক্তি ভোটে দাঁড়িয়েছে সে কি তার নিজের ভোটটাও দেয় না? পৃথিবীর কোথাও কি এমন ঘটনা ঘটেছে? কোনো জাতি কি এমন করে? এটা কীভাবে সম্ভব?’

এসময় আবু তালেবের সমর্থকরা ‘চোর’ ‘চোর’ বলে চিৎকার দিয়ে বলতে থাকেন, ‘বিচার চাই বিচার চাই, ভোট চোরের বিচার চাই’, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই’, ‘এই নির্বাচন মানি না, বিচার চাই, বিচার চাই’।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে এমন উত্তেজনামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুনরায় ভোট গণনা করা হয়।
এসময় টেবিলের নিচে পড়ে থাকা এক বান্ডিল ব্যালট পেপার গুনে দেখানো হয়, তিনি ৮৩ ভোট পেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেলঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ভোটের এক বান্ডিল ব্যালট পেপার টেবিলের নিচে পড়ে থাকায় তাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এ ভুলের কারণে তারা মনে করেছেন আবু তালেব শূন্য ভোট পেয়েছেন। কিন্তু পরে টেবিলের নিচে ব্যালট পেপার খুঁজে পাওয়ায় পর পুনরায় ভোট গণনায় তার প্রাপ্ত ফলাফল বেরিয়ে আসে।