• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

ফেনীতে নির্বাচনের পরদিন কেন্দ্রে মিলল সিলযুক্ত ব্যালট

news photo n2
❏ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২১ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

আবদুল্যাহ রিয়েল, ফেনী প্রতিনিধি- ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে সদর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রের পাশ থেকে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের সীল-সাক্ষার যুক্ত ব্যালট পেপার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) উপজেলার সদর ইউনিয়ন ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্র এলাকা থেকে সীল যুক্ত পেপার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যালটগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ব্যালটে হাতপাখা প্রতীকের সিল মারা, অল্প কয়েকটিতে নৌকা, ঘোড়া ও টেলিফোন প্রতীকের সিল রয়েছে।

এদিকে, নৌকা ও হাতপাখা মার্কায় সিলযুক্ত ব্যালট উদ্ধারের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্রের সামনে মনগাজী সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করে। পরিত্যক্ত ব্যালট পেপার নিতে আসা দুই ব্যক্তিকে গণধোলাই দিয়ে আটক রেখেছে এলাকাবাসী। তারা ছাড়াইতকান্দি হোসাইয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ফল বাতিল ও পুনঃভোটের দাবি জানান।

এর আগে ফলাফল কারচুপির অভিযোগে পুরুষ মেম্বার প্রার্থী মোঃ এনামুল হক শিপন ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার প্রার্থী মঞ্জু রানী দেবী ভোটের দিন সন্ধ্যায় ভোট পুনঃগননার অবেদন করেন। সোমবার পরিত্যক্ত ব্যালট পেপার উদ্ধারের পর কেন্দ্র ফল বাতিল ও পুণঃভোট গ্রহনের আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে পায় ৩৫৭ ভোট, ঘোড়া পায় ২৯৩ ভোট, লাঙ্গল পায় ১২৩ ভোট, হাতপাখা পায় ৮৪ ও টেলিফোন প্রতীক পায় ৯৪ ভোট। এ কেন্দ্রের মধ্যে ২৪৯টি ভোট বাতিল করা হয়েছে অর্থাৎ মোট ভোট গ্রহন হয়েছে ১২০০টি। এ কেন্দ্রের মোট ভোট ১৭৭১টি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আরেফিন মানববন্ধন ও হাইকোর্টে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র ভোট চুরি করে নৌকা জয়ী হয়েছে। নৌকার সমর্থকরা কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সীল মেরে বাক্স ভর্তি করেছে। এ কেন্দ্রের মতো ইউনিয়নের সব কেন্দ্রে ভোট কারচুপির করা হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এই কেন্দ্রের মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ এনামুল হক শিপন জানান, সোমবার হোসাইনিয়া মাদ্রাসার দপ্তরি মোঃ নাসির ঘটনাস্থলে প্রিজাইডিং অফিসারের সীল-সাক্ষর সম্বলিত ব্যালট পেপারগুলো দেখতে পান। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীরা পুলিশে খবর দিলেও তারা আসেনি।

তিনি আরো বলেন, ভোট গ্রহণে কারচুপির হয়েছে। চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের প্রতীকে মোট ভোট সমান হওয়ার কথা কিন্তু সেখানে চেয়ারম্যান পদে মোট ১২০০টি ভোট দেখানো হলেও মেম্বার পদে মোট ১০১৮টি ভোট দেখানো হয়েছে। স্পষ্টতো ভোট কেন্দ্রে কারচুপির হয়েছে এবং প্রিজাইড়িং অফিসারও মোট ভোট মিলাতে পারেন নি। এ ব্যাপারে আমরা ভোট পুনঃগননা চেয়ে রিটার্নিং অফিসারের নিকট করেছি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ মাইনুল হক বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। কেন্দ্র প্রিজাইডিং অফিসার ভুল করে কয়েকটি ব্যালট পেপার রেখে এসেছেন। এ নিয়ে প্রপাগাণ্ডা ছড়ানোর কিছু নেই।

ওই কেন্দ্রে ফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতনের সাথে কথা বলে দেখছি।