• আজ সোমবার, ১০ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

পাবনায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা: গুলিতে আ. লীগ নেতা নিহত

pabna n24
❏ বুধবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২১ দেশের খবর, ফিচার, রাজশাহী

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি- পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের গুলিতে খুন হয়েছেন নৌকার সমর্থক ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম হোসেন (৩৬)।

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর হাটপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীম নাজিরপুর হাটপাড়া গ্রামের নুর আলী মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম মধু পরাজিত হয়। বিজয়ী হয় জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন তারিকুল আলম ওরফে নিলু খাঁ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মঞ্জুরুল ইসলাম মধু তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নাজিরপুর হাটপাড়া বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় এ সময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তারিকুল আলম ওরফে নিলু খার ছেলে ইমরান জামায়াত ও শিবিরের
বেশকিছু লোকজন নিয়ে এসে অতর্কিত গুলি করে পালিয়ে যায়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান শামীম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রোকনুজ্জামান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে খবর পেয়েই পাবনা সদর আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স হাসপাতালে ছুটে যান। নিহতের আত্মীয়দের সান্ত্বনা দেন এবং ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে অনুরোধ করেন।

আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম মধু অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তারিকুল আলমের ছেলে ইমরান হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জাহাঙ্গীর আলম খান ওরফে আলম হাজীর লোকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোঁড়ে। এ সময় আমার সামনে থাকা কর্মী শামীম গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে। এলোপাথাড়ি গুলিতে আমিও মাটিতে শুয়ে পড়ায় প্রাণে রক্ষা পাই।

এ ঘটনায় বিজয়ী চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান ওরফে আলম হাজী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তারিকুল আলম ওরফে নিলু খাঁর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রোকনুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শণ করেছে। পরে হাসপাতাল থেকে নিহত শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।