🕓 সংবাদ শিরোনাম

লালমনিরহাটে নকল বিল ভাউচারে স্কুলের টাকা আত্মসাৎ * সাতক্ষীরায় দুধের পরিমাণ বাড়িয়ে বিক্রি, ব্যবসায়ীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা * রবীন্দ্রকাছারি বাড়িই হবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্র: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী * বিএনপি বাড়াবাড়ি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী * ফরিদপুরে হাজিরা দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণে আসামীর মৃত্যু * ধান উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার * লাখাইয়ে বীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন * ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি * ১০ টাকার টিকিট কেটে চোখ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী * রসিক নির্বাচনে বিএনপির পর এবার সরে দাঁড়াল জামায়াত *

  • আজ মঙ্গলবার, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৯ নভেম্বর, ২০২২ ৷

বগুড়ায় বিনামূল্যের বই নিতেও লাগছে ঘুষ!

book n24m
❏ শনিবার, জানুয়ারি ১, ২০২২ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: সরকার নতুন বছরের শুরুতেই বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দিয়ে আসছে প্রতিবছর। কিন্তু করোনার কারণে এবছর বই ছাপাতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার পরেও বছরের প্রথম দিনেই প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন বই তুলে দিতে পারছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এরমধ্যে পাঠ্যবইয়ের কিছুটা ঘাটতি রেখেই শুরু হয়েছে নতুন বই বিতরণ। আর এসব বিনামূল্যের সরকারি বই বিতরণ করতে নেয়া হচ্ছে ঘুষ। উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছ থেকে ঘুষ ছাড়া মিলছেনা এসব পাঠ্যবই।

এমন অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শেরপুরের স্থানীয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়ে বই না দেওয়া ও বিভিন্ন হয়রানির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ২৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৭৩টি, ৪৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। কিন্তু বিনা মূল্যের সরকারি বই বিতরণে বিদ্যালয় প্রধান ও তাঁদের প্রতিনিধি শিক্ষকদের জিম্মি করে ঘুষ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগে জানা যায়, সরকারি বই পেতে প্রত্যেক কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে ১২’শ টাকা, মাধ্যমিক স্কুল ৫’শ টাকা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে ৩’শ টাকা করে আদায় করা হয়।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নিয়োগ করা আদায়কারীর নিকট নির্ধারিত ওই ঘুষের টাকা দিলেই কেবল তাদের বই দেওয়া হয়। অন্যথায় কোনো বই দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।

তোফাজ্জল ও নাজমুল ইসলাম নামের দুই শিক্ষককে টাকা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে। ওই অফিসের কর্মকর্তা নজমুল ইসলামের নির্দেশে তাঁরা টাকা আদায় করছিলেন বলে দাবি ভুক্তভোগী শিক্ষকদের। তবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার অনেক কিন্ডারগার্টেন প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও।

শিক্ষক আসলাম হোসেন, জাহিদুল ইসলামসহ একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর ধরেই এভাবে নতুন বই নেওয়ার সময় তাঁদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো লাভ হয় না। এ ছাড়া শিক্ষা অফিসে তাঁদের অনেক কাজ থাকে। তাই বেশি কিছু বললে পরবর্তীতে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়।

সরকারি বই নেওয়ার সময় টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তোফাজ্জল ও নাজমুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে সাক্ষাতে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন তাঁরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. মিনা খাতুন বলেন, বই বিতরণের সম্পূর্ণ কাজটি করে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। তাদের শিক্ষকরা টাকা দিয়ে বই নিয়ে থাকলে যাঁদের সম্পর্কে অভিযোগ তাঁরাই ওই বিষয়ে জবাব দেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজমুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে গনমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘কে বা কারা টাকা নিয়েছে সেটি বলতে পারব না। এই টাকা আদায়ের সঙ্গে আমার অফিসের কেউ জড়িত নেই। এ ছাড়া বই নেওয়ার সময় টাকা আদায়ের বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেনি। এর পরও খোঁজখবর নেওয়া হবে।’