নাতির দায়ের কোপে বৃদ্ধা দাদির মর্মান্তিক মৃত্যু্

দায়ের কোপে
❏ রবিবার, জানুয়ারী ২, ২০২২ দেশের খবর, সিলেট

সময়ের কণ্ঠস্বর, আখাউড়া :  ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাতির দায়ের কোপে বৃদ্ধা দাদির মর্মান্তিক মৃত্যু্র ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে আখাউড়া পৌরশহরের শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে ।

নিহত বৃদ্ধা হলো মৃত রশিদ খাঁর স্ত্রী জোহরা খাতুন (৭৫)। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

আটকরা হলেন- নিহতের দেবর শান্তিনগরের বজলু খাঁ (৭০), বজলু খার ছেলে ফজল খা (৪০) ও বজলু খার মেয়ে বিলকিছ ওরফে বেগম (৩৫)।

এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সুত্রে জানা গেছে, মৃত সুজাত খাঁর দুই ছেলে রশিদ খা ও বজলু খার মধ্যে বাড়ির জায়গা নিয়ে ৩৬ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতে গড়ালে গত ৬ বছর আগে রশিদ খা আদালতের মাধ্যমে রায় পেয়ে ওই ভূমিতে সীমানা দেওয়াল নির্মাণ করে। কিন্তু বজলু খা ও তার পরিবারের লোকজন বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার তর্কবিতর্ক ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। রবিবার সকালে বজলু মিয়া ও তার ছেলেসহ ১০-১২ লোক সকালে জোরপূর্বক রশিদ খার ভূমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এসময় রশিদ খার ছেলেরা দেওয়াল ভাঙার কারণ জিজ্ঞাসা করলে প্রতিপক্ষ বজলু খার লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাদের মারতে আসে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরিস্থিতি খারাপ দেখে রশিদ খার ছেলেরা সেখান থকে চলে আসে। এর কিছুক্ষণ পরে ফজল খার ছেলে ইয়াছিন খা (২০) ও মাছুম খা (৩০) রশিদ খার ঘরে ঢুকে জোহরা খাতুনের মাথায় সজোরে দা দিয়ে কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করে। জোহরার চিৎকারে তার ছেলে ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অল্প কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে জোহরা খাতুনের ছেলে জাহাঙ্গীর খার ছেলে রনি খা বলেন, তাদের একটি মামলায় হাজিরা দিতে সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে যাই। দুপুরে এসে দেখি বজলু খাও তার ছেলেরা আমাদের দেওয়াল ভেঙে ফেলছে। এসময় আমরা প্রতিবাদ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে আমাদের মারতে আসে। পরে লোকজন আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এর পরপরই বজলু খার নাতি ইয়াছিন আমাদের ঘরে ঢুকে দা দিয়ে কুপিয়ে আমার মাকে হত্যা করে।

আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শ্যামল ভৌমিক বলেন, নিহতের মাথায় দায়ের কুপ ছিল। শরীরেও আঘাত ছিল। ব্রেইনে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

কসবা সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার নাহিদ হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পূর্ব বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাঠানো হবে।