• আজ শুক্রবার, ৭ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের দাবিতে সারাদেশে ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের মানববন্ধন


❏ রবিবার, জানুয়ারী ৯, ২০২২ শিক্ষাঙ্গন

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ধীন মৎস্য অধিদপ্তরের নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ সংশোধন ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন সারাদেশের মৎস্য স্নাতকরা।

রবিবার মৎস্যবিজ্ঞান সম্পর্কিত দেশের নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উক্ত দাবির প্রেক্ষিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন। এর আগে গত বছরের ২ ডিসেম্বর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা আজ দুপুর ১২.৩০ মিনিটে মানববন্ধন আয়োজন করে। উক্ত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন সেলিম, মাহফুজুল হক রিপন, কে.এম শাকিল রানা এবং ফজলে রোহানী।

একই সময়ে একই দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

উল্লেখ্য গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে, মৎস্য অধিদফতরের নন-ক্যাডারের দশম গ্রেডের বিভিন্ন পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তত্ত্বাবধায়ক পরিদর্শক, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা পদসমূহে মোট ২০১টি শূন্য পদের নিয়োগে শুধু প্রাণিবিদ্যা ও মৎস্য ডিপ্লোমাধারীদের আবেদন করার যোগ্যতা দেওয়া হয়েছে। মাৎস্যবিজ্ঞান স্নাতক শিক্ষার্থীদের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

অন্যদিকে নবম গ্রেডের চাকরির আবেদনে মাৎস্যবিজ্ঞান স্নাতক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রাণিবিদ্যা স্নাতকদের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর হাজারের অধিক মৎস্য গ্র্যাজুয়েট পাশ করে বের হলেও গত চার বছরে বিসিএস এবং সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মিলিয়ে মাত্র শতাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। চাকরির ক্ষেত্র সীমিত হওয়ায় মৎস্য গ্র্যাজুয়েটরা বিভিন্ন সরকারি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির চাকরিতে আবদেন করছে। সেখানে মৎস্য বিষয়ক সরকারি দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে আবেদনের সুযোগ না রাখা খুবই দুঃখজনক।

মানববন্ধনে বক্তারা চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে টেকনিক্যাল পদসমূহে মাৎস্যবিজ্ঞান স্নাতকদের সুযোগ প্রদান এবং নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ সংশোধনের জন্য কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নতুন পদ সৃষ্টি এবং সুগঠিত অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এ সময় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।