• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

দু’ঘণ্টার চেষ্টায় রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন নিয়ন্ত্রণে, সহস্রাধিক বসতবাড়ি ভস্মীভূত

Cox's Bazar news
❏ রবিবার, জানুয়ারী ৯, ২০২২ Breaking News, চট্টগ্রাম
শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি:  ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিটের দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী রোহিঙ্গা শিবিরে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে, এরই মধ্যে পুড়ে গেছে প্রায় সহস্রাধিক বসত ঘর।
রোববার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪ টা ৪০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের বি-ব্লকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক কর্মকর্তা সময়ের কণ্ঠস্বরকে  জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল বশর জানান, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন, এপিবিএন সদস্য ও স্থানীয়রা প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরমধ্যে বিপুল পরিমাণ ঘর পুড়েগেছে।
উখিয়া বালুখালী ক্যাম্পের নেতা সুলতান আহমদ জানান, ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে এসব মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে। দ্রুত তাদের সহায়তা দেওয়া দরকার।
রোহিঙ্গা শিবিরে দায়িত্বরত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন জানান, বি-ব্লকের মোহাম্মদ আলীর (৩৫) ঘর থেকে গ্যাসের চুলার মাধ্যমে আগুনের সুত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পরে আগুন ক্যাম্পের ব্লক-বি ও ব্লক-সি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ৮ এপিবিএন এর অফিসার ফোর্স এবং ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ১ হাজারের অধিক ঘর পুড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
ক্যাম্পে কাজ করা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১৪ এর (এপিবিএন) পুলিশ সুপার নাইমুল হক বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আমরা একীভূত হয়ে কাজ করেছি। এখানো হতাহতের খবর আমাদের কাছে নেই। আগুণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত, উখিয়ার ইউএনও নিজাম উদ্দিনসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে চলতি বছরে ২ জানুয়ারি উখিয়া বালুখালী ২০ নম্বর ক্যাম্পের জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত করোনা হাসপাতালের জেনারেটর থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত বছরের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালীতে আগুনে পুড়ে মারা যায় ১৫ জন রোহিঙ্গা। তখন ১০ হাজারের মতো ঘর পুড়ে ছাই হয়েছিল