• আজ সোমবার, ১০ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

আসন ধরে রাখতে মরিয়া আ.লীগ, সুষ্ঠু ভোট চায় জাতীয় পার্টি

mirzapur n2
❏ শনিবার, জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ঢাকা, দেশের খবর

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- আজ ১৬ই জানুয়ারি টাঙ্গাইল-০৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির।

বিজয় নিয়েই প্রয়াত এমপি’র অসমাপ্ত কাজ করতে চাই: শুভ
আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে এই আসনের প্রয়াত টানা চারবারের এমপি একাব্বর হোসেনের অসমাপ্ত কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের সবক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সুন্দর জাতি গঠনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুকের ছেলে হিসেবে আমাকে এই আসনে নৌকা প্রতীক দিয়ে মির্জাপুরবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন। মির্জাপুরবাসী নতুন মুখ হিসেবে আমাকে স্বাদরে গ্রহণ করে নিয়েছে এবং সকল জনগণের মাঝে আমি একটা স্বতঃস্ফূর্ত লক্ষ্য করতে পারছি।

আশা করছি আমি যদি বিজয়ী হতে পারি তাহলে শতভাগ সুন্দর মির্জাপুর গঠনে মাদক, সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত ও জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমি কাজ করবো। যেহেতু দেশের ষাট শতাংশ ভোটারই তরুণ তাই তরুণদের সাথে নিয়ে আমি একটি সুন্দর মির্জাপুর গড়বো, আগামী ১৬ তারিখের নির্বাচনে বিপুল ভোটের মাধ্যমে নৌকাকে বিজয়ী করবে।

গত ৫ জানুয়ারি এ উপজেলার ৮ ইউপির মধ্যে ৩টিতে নৌকার জয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিবেদককে বলেন, এটি উপনির্বাচন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় প্রভাব থাকায় পাঁচ ইউপিতে স্বতন্ত্রের জয় হয়েছে। তবে একারণে এ নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি মনে করেন।

সুষ্ঠুভোট নিয়ে শঙ্কায় আছি: জহির
অপরদিকে নির্বাচনে সুষ্ঠুভোট হবে কি না এনিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম জহির। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আ.লীগের প্রতি মানুষের অনাস্থা, নির্যাতন, জুলুম, অত্যাচারের কারণে জনগণ এখন জাতীয় পার্টিকে চায়। ইতিমধ্যে সারা মির্জাপুরে জাতীয় পার্টির প্রতি মানুষের গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি নির্বাচনে আমাদের জয় হবেই, ইনশাআল্লাহ। তিনি নির্বাচন কমিশনের সুদৃষ্টি কামনা করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।

গত ১৬ নভেম্বর এই আসনের টানা চারবারের এমপি একাব্বর হোসেনের ইন্তেকালের পর উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। এ নির্বাচনে ৭ প্রত্যাশী থাকলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয় এবং ২৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর পরই ভোট যোদ্ধে নামেন পাঁচ প্রার্থী।

এদিকে মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ তাদের কর্মী-সমর্থকেরা মাঠে-ঘাটে হাটে বাজারে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ও বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভা, পথসভা করে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মন জয়ের চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র, কংগ্রেস ও ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মী-সমর্থকেরাও ভোটারদের মন জয় করার নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠ জমে উঠেনি। সাধারণ ভোটাররা বলছেন আগের মতো আর নির্বাচনের আমেজ নেই।

এদিকে এই আসনে প্রথমবার ইভিএম’এ ভোটগ্রহণ নিয়ে জনমনে উৎসাহ ও সংশয় উভয়ই লক্ষ্য করা গেছে। তবে, ইসি কর্মকর্তারা স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। চারদিনব্যাপী কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণের প্রশিক্ষণও করিয়েছে ইসি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা বিজয়ী হলে উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতসহ আরো নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে সাধারণ ভোটাররা দল নয়, ব্যক্তির ইমেজকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এই প্রথম এ আসনে ইভিএমএ ভোট হলেও সেটি সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে চায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (মমনসিংহ অঞ্চল) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সাহেদুন্নবী চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত খান আহমেদ শুভ (নৌকা) ও জাতীয় পার্টি মনোনীত জহিরুল ইসলাম জহির (লাঙ্গল), ওয়ার্কার্স পার্টির গোলাম নওজব চৌধুরী পাওয়ার (হাতুড়ি), কংগ্রেস পার্টির রূপা রায় চৌধুরী (ডাব), স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরু (মোটরগাড়ি) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রসঙ্গ, ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম উপজেলা হিসেবে উন্নীত হওয়া একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৯। এরমধ্যে নারী ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৭ ও পুরুষ ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০১ জন।